গাজা, ৭ জুন (ডেইনিক ৩৬ জুলাই):
পবিত্র ঈদুল আজহার দিনেও দখলদার ইসরায়েল থামেনি—চালিয়েছে বর্বর ও রক্তাক্ত হামলা। ঈদের পবিত্রতা ভুলণ্ঠিত করে শুক্রবার সারাদিন গাজা জুড়ে দফায় দফায় চালানো ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে ১৬ জনের মরদেহ পৌঁছায়। উত্তর গাজার আল-শিফা হাসপাতালে আনা হয় আরও ১৬ জনের মরদেহ। পাশাপাশি, দেইর এল-বালাহর আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে পাঠানো হয় ৫ জনের মরদেহ।
খান ইউনিসের একটি হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাফাহ শহরের পশ্চিম ও উত্তর অংশে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের আশপাশে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে প্রাণ হারান আরও ৭ জন ফিলিস্তিনি। এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে: “ত্রাণের লাইনে দাঁড়ানো মানুষও কি এখন টার্গেট?”
এই ঘটনার পর, গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) ঘোষণা দেয়, গাজা জুড়ে তাদের সকল ত্রাণ কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তরের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিচালিত এই বিতর্কিত ফাউন্ডেশনের দেওয়া ত্রাণ নিতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ১১০ জন ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন।
অপরদিকে, বৃহস্পতিবার গাজার আহলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন একজন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক, যিনি কয়েকদিন আগে ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়েছিলেন।
এ নিয়ে গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা দাঁড়াল ২২৬ জনে।
🔍 বিশ্লেষণ ও প্রতিক্রিয়া:
এতগুলো মৃত্যুর পরও আন্তর্জাতিক মহলের নীরবতা যেন আরও বেদনাদায়ক। জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো ‘গভীর উদ্বেগ’ জানালেও কার্যকর পদক্ষেপ এখনও অধরাই।
✍️ প্রতিবেদক: মাকসুদুর রহমান
সূত্র: আলজাজিরা, গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, গাজা মিডিয়া অফিস