October 28, 2026, 10:22 am
শিরোনাম :
মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললেই হামলার অভিযোগ—কালিকাপুরে মাদক সিন্ডিকেটের দাপট? আতঙ্কে তরুণ সমাজ, উঠছে নানা প্রশ্ন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে কুড়িগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সরকারি বাঙলা কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত কারো বক্তব্য প্রচার বন্ধ রাখা যায় না, সরাইলে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা! কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে হামলার ভিডিও ধারণ করার সাংবাদিকদের ডান হাতের কাঁধ ভেঙে দিল ছাত্রদলের দুর্বৃত্তরা হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ নাসিরনগরে কৃষি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, জনতার হাতে এক প্রতারক আটক ‎প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, ‎বাজারের অস্থিরতায় লাগাম টানতে চাই কার্যকর ‎পদক্ষেপ, পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে খুচরা দাম, নাসিরনগরে কাঁচামরিচের কেজি ছাড়ালো ৩০০ টাকা
নোটিশ :

স্বেচ্ছায় পদত্যাগের পর ‘জোরপূর্বক পদত্যাগের’ অভিযোগ! বরইউড়ি মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

রিপোর্টারের নাম

 

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বরইউড়ি দারুসুসনাত বহুমুখী আলিম মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এ. এফ. এম. সৈয়দ হোসেনকে ঘিরে আবারও তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার পর এখন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে ইনডেক্স বহালের আবেদন এবং পদত্যাগে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তোলায় ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে স্থানীয় মহলে।

প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের নথিতে দেখা যায়, গত ৯ মার্চ ২০২৬ইং তারিখে অধ্যক্ষ সৈয়দ হোসেন স্বহস্তে লিখিত আবেদনে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি বরাবর পদত্যাগপত্র দাখিল করেন। ওই আবেদনে তিনি শারীরিক অক্ষমতার কারণে দায়িত্ব পালন সম্ভব নয় উল্লেখ করে স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র গ্রহণের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার আপোষ নিষ্পত্তি ও বকেয়া বেতন প্রদানের অনুরোধ জানান। পদত্যাগের পর তার অনুরোধের প্রেক্ষিতে গভর্ণিংবডি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
এবং বিগত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ইং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জ নোটারী পাবলিক- ৬৪৩ (আপুষনামা)-য় স্বেচ্ছায় পদত্যাগের বিষয়টি স্বীকার করে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দায়েরকৃত সি আর মামলা ৩৩৩/২০২৫ আপোষ নিষ্পত্তি করেন।

কিন্তু, পরবর্তীতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া আরেক আবেদনে তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানে বর্তমান দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টি করে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি তার এমপিও ইনডেক্স বহাল রাখার আবেদনও করেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, যে ব্যক্তি নিজ হাতে লিখিত আবেদন দিয়ে পদত্যাগ করেন, তিনি পরে কীভাবে দাবি করেন যে পদত্যাগটি চাপের মুখে নেওয়া হয়েছে?

এদিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সৈয়দ হোসেন স্বেচ্ছায় এবং সজ্ঞানে পদত্যাগ করেছেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেই সম্পন্ন হয়েছে। গভর্নিং বডি, গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারাদের উপস্থিতিতেই পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করা হয়েছে। পরে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। আমি নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার চাই।”

স্থানীয়দের দাবি, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়ম, আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নিয়ে একাধিক পর্যায়ে তদন্ত হয়েছিল। এসব অভিযোগ এবং তদন্তের প্রেক্ষাপটেই তিনি পদত্যাগ করেছেন।

উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, অধ্যক্ষের স্বেচ্ছা পদত্যাগের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জ্ঞাত ছিল। স্থানীয়ভাবে এ বিষয়ে অবহিত করেই পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে শিক্ষা প্রশাসনে দেওয়া আবেদনের বক্তব্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একদিকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের আবেদন, অন্যদিকে পরে জোরপূর্বক পদত্যাগের অভিযোগ, এই দ্বৈত অবস্থান নিয়ে মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয়দের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা।



আমাদের পেজ লাইক করুন