July 28, 2026, 11:25 am
শিরোনাম :
‎প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, ‎বাজারের অস্থিরতায় লাগাম টানতে চাই কার্যকর ‎পদক্ষেপ, পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে খুচরা দাম, নাসিরনগরে কাঁচামরিচের কেজি ছাড়ালো ৩০০ টাকা রাজশাহী প্রেসক্লাব সভাপতি সাইদুর রহমানের সুস্থতায় দোয়া মাহফিল সবুজ কুড়িগ্রাম গড়তে সবাইকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’: জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ ‎নাসিরনগরের ধরমন্ডলে জাল টাকার নোট সহ গ্রেপ্তার -১ নাসিরনগর উপজেলা যুব এসোসিয়েশন ঢাকার নতুন কমিটি গঠন, ‎ ‎নাসিরনগরে ১০৭ পিস ইয়াবা সহ এক নারী আটক ‎ স্বেচ্ছায় পদত্যাগের পর ‘জোরপূর্বক পদত্যাগের’ অভিযোগ! বরইউড়ি মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষকে ঘিরে নতুন বিতর্ক জেলা এনসিপির সংবাদ সম্মেলন আগামীকাল কুড়িগ্রামে আসছেন আখতার, সার্জিস ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
নোটিশ :

নজিরবিহীন সাফল্যের পরও সরানো হলো ডিআইজি ড. নাজমুল করিম খান

জোনায়েদ হোসেন জুয়েল

নজিরবিহীন সাফল্যের পরও সরানো হলো ডিআইজি ড. নাজমুল করিম খান

প্রভাবশালীদের চাপে অপসারণ | রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার এক দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা

 

 

 

 

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি দৈনিক৩৬জুলাই

 

 

 

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ডিআইজি ড. মো. নাজমুল করিম খান অপরাধ দমনে অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েও প্রভাবশালী মহলের রোষানল থেকে রক্ষা পাননি। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরের এক আদেশে তাকে ক্লোজ করে সদর দপ্তরে রিপোর্ট করতে বলা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আদেশ কেবল প্রশাসনিক নয়—এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর চাপে এবং বিএনপির প্রতি অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

দমন নয়, প্রতিশোধ

অভিযোগ রয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তিনজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গ্রুপ তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। কারণ, তিনি কোনো রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে জিএমপি অঞ্চলে মাদক, জুয়া, ছিনতাই, ডাকাতি ও হানিট্র্যাপের মতো গুরুতর অপরাধ দমন করেন।

বিশেষ করে আলোচিত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলায় মাত্র তিন দিনের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে তিনি প্রমাণ করেন—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব, যদি নেতৃত্বে সাহস ও নিষ্ঠা থাকে।

বাসভবন ইস্যু ছিল ছুতো

সদর দপ্তরের আদেশে তার ঢাকায় থেকে অফিস করার বিষয়টি “অপেশাদার” হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, এ পদ্ধতিই জিএমপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে কমিশনারদের প্রচলিত নিয়ম। তার পূর্বসূরিরাও একইভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সরকারি আবাসনের ব্যবস্থা না রেখে একজন কমিশনারকে ঢাকায় থেকে যাতায়াত করায় দোষারোপ করাটা একটি প্রহসনের নামান্তর বলে মনে করছেন অনেকে।

যোগ্যতাই তার অপরাধ?

ড. নাজমুল করিম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। জাপানে কৃষিতে পিএইচডি ডিগ্রিধারী এই কর্মকর্তা পেশাগত দক্ষতা, সততা ও কঠোর অবস্থানের জন্য সুপরিচিত। ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তিনি পুনর্বহাল হন এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরে জিএমপি কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান।

তার সময়ে গাজীপুরে ছয় মাসে ২ হাজার ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার, হোটেলভিত্তিক অবৈধ ব্যবসা বন্ধ, মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণ এবং পোশাক খাতে অস্থিরতা মোকাবেলায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

নেতৃত্ব দমন, বার্তা প্রশাসনের প্রতি

বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন সৎ ও সাহসী পুলিশ কর্মকর্তাকে এভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মনোবলে আঘাত এসেছে। এতে প্রমাণিত হয়—এই রাষ্ট্রে দক্ষতা নয়, রাজনৈতিক আনুগত্যই পদোন্নতির মূল শর্ত।

এটি কেবল একজন কর্মকর্তার অপসারণ নয়, এটি পুরো প্রশাসনের প্রতি একটি হুমকি—‘সৎ থাকলে, সাহস দেখালে তুমি একা পড়বে।’

ড. নাজমুল করিম খানের মতো একজন পেশাদার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ প্রমাণ করে—দেশে আইনের শাসনের চেয়ে ক্ষমতার শাসনই আজ বড় বাস্তবতা।



আমাদের পেজ লাইক করুন