বৈরুতে ইসরায়েলের বিমান হামলা: ঈদের প্রাক্কালে উত্তপ্ত লেবানন
২০২৫ সালের ৫ জুন, ঈদুল আযহার প্রাক্কালে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়েহ এলাকায় ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় অন্তত ১০টি স্থানে আঘাত হানা হয়েছে, যার ফলে ঘন ধোঁয়া ও ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন, অনেকেই পায়ে হেঁটে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েন ।
হিজবুল্লাহর ড্রোন কারখানা লক্ষ্যবস্তুঃ
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের মতে, এই কেন্দ্রগুলো ইরানি অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছিল এবং ভবিষ্যৎ সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল ।
লেবাননের প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগঃ
লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা হামলার আগে ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ইসরায়েল তাদের পরামর্শ উপেক্ষা করেছে। এছাড়া, তারা সতর্ক করেছে যে, এই ধরনের হামলা যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ কমিটির সঙ্গে তাদের সহযোগিতা স্থগিত করতে বাধ্য করতে পারে ।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং এটিকে ২০২৪ সালের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন ।
পটভূমি ও চলমান উত্তেজনা-
২০২৩ সালের অক্টোবরে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের সামরিক অবস্থানে হামলা চালালে, ইসরায়েল পাল্টা অভিযান শুরু করে। এই সংঘাত ১৪ মাস ধরে চলে এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়। তবে, এই চুক্তির পরেও উভয় পক্ষ একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে
বৈরুতে ইসরায়েলের সর্বশেষ বিমান হামলা লেবাননে রাজনৈতিক ও মানবিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তির বারবার লঙ্ঘন এবং উভয় পক্ষের পারস্পরিক অবিশ্বাস পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ এবং কার্যকর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ছাড়া এই সংঘাতের সমাধান কঠিন হয়ে পড়েছে।