নিজস্ব প্রতিবেদক- দৈনিক ৩৬ জুলাই ঢাকা।
রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাগ ৩৮, শান্তিনগর এলাকার জাকেরা গার্ডেন ৩৮/১, ২ ও ৩ নম্বর ভবনের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এক চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, রাজউকের অনুমোদিত নকশা উপেক্ষা করে প্রভাবশালী ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান “হেরিটেজ এল রহমান প্যালেস (Heritez L Rahman Palace)” সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। অথচ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকার পরও রহস্যজনক নীরব ভূমিকা পালন করছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জে.এল নং-এস.এ-২৮৬, আর.এস-৩, ঢাকা সিটি জরিপ-২নং, মৌজা-পশ্চিম রাজাবাগ,৩৮ শান্তিনগর, এলাকার খতিয়ানভুক্ত জমিতে পূর্বের একটি ভবন ভেঙে অধিক উচ্চতা ও আয়তনের নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নির্মাণাধীন ভবনটি অনুমোদিত নকশার তোয়াক্কা না করেই নির্মাণ করা হচ্ছে এবং জমির মালিকদের মতামতকেও উপেক্ষা করছে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানটি।
ভুক্তভোগীরা জানান, ভবনটি এমনভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে যার ফলে আশপাশের পাঁচটি ভবনের স্বাভাবিক আলো-বাতাস সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। দিনের বেলাতেও বাসিন্দাদের লাইট জ্বালিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ২ নম্বর ভবনটি প্রায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শিশু, নারী ও বয়স্করা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং মানসিক চাপে দিন কাটাচ্ছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, রাজউকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয়রা জানতে পেরেছেন, নকশার বাইরে ভবন নির্মাণের বিষয়টি তারা অবগত আছেন। কিন্তু এরপরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি প্রভাবশালী ডেভেলপারদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে রাজউক? নাকি অদৃশ্য কোনো প্রভাবের কারণে আইন লঙ্ঘনের পরও চোখ বন্ধ করে রয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাটি?
স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও রাজউক রহস্যজনকভাবে নীরব থেকেছে। বরং ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলছেন, “আইন যদি সাধারণ মানুষের জন্য হয়, তবে প্রভাবশালীদের জন্য কেন ভিন্ন নিয়ম?”
এলাকাবাসী অবিলম্বে নির্মাণকাজ বন্ধ, নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তারা রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান।
এখন দেখার বিষয়, রাজউক কি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, নাকি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় নগর পরিকল্পনার নামে চলতে থাকবে আরেকটি ভয়ংকর অনিয়মের মহোৎসব।