নিজস্ব প্রতিবেদক।
দৈনিক ৩৬ জুলাই ঢাকা।
মাদকের ভয়ংকর থাবা থেকে দেশের তরুণ ও যুবসমাজকে বাঁচাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করে।
গতকাল ২৯ এপ্রিল, বুধবার, ডিবির পৃথক অভিযানে ঢাকায় আবারও উন্মোচিত হলো একটি ভয়ংকর মাদক নেটওয়ার্ক। অভিযানে ৮ কেজি হেরোইন, ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা, ৫৫৯ বোতল ফেনসিডিল ও ২৫৫ কেজি গাঁজাসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এরা কোনো ছোটখাটো মাদক ব্যবসায়ী নয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এদের “গরিবের পাবলো এসকোবার” বা মেক্সিকোর “এল মেনচো” বললেও অত্যুক্তি হবে না।
রমনা এলাকায় অভিযানে ধরা পড়া মূল মাদক সম্রাট জাহাঙ্গীর আলম। তার সহযোগীদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ হেরোইন প্রমাণ করে, এই নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানীতে সক্রিয় এবং তাদের গোপন কার্যক্রম সারা দেশে বিস্তৃত। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন উৎস থেকে মাদক সংগ্রহ করে একটি সুসংগঠিত সরবরাহ চেইনের মাধ্যমে তা ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দিচ্ছিল তারা।
গোয়েন্দা তথ্যমতে, তাদের নেটওয়ার্কে মাদক ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD)’ পদ্ধতিতে সরবরাহ করা হতো। সহজভাবে বললে, খাবার বা পোশাকের মতো হোম ডেলিভারির মাধ্যমে হেরোইন, ইয়াবা, গাঁজা ইত্যাদি পৌঁছে দেওয়া হতো। এই মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরকে কি আপনি চেনেন? তার পরিচয় শুনুন, সে পার্ট-টাইম পুলিশ কনস্টেবল, ফুল-টাইম মাদক ব্যবসায়ী! এর বাইরে তার আরেকটি বড় পরিচয় রয়েছে—সে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরের শূরা সদস্য।
এত বড় মাদকের চালানসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পরও আশ্চর্যজনকভাবে তার রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আসেনি। সাঈদী-পুত্র এবং চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে জামায়াতের এমপি প্রার্থী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুর রহমানের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করা হচ্ছে এই মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরকে।
শেষ ছবিটি কয়েক মাস আগের, যেখানে জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে অনুদান গ্রহণের একটি দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে ধারণা করা যায়, জামায়াতের কিছু নেতাকর্মীর নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে দেশের একটি বড় মাদক নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।