এম এ রইচ, মহম্মদপুর (মাগুরা): প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের প্রতিটি প্রান্তে, ব্যতিক্রম নয় মাগুরা-২ আসনও। মহম্মদপুর-শালিখা উপজেলা ও জেলা সদরের চার ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে ইতোমধ্যে মাঠে নেমে গেছেন পাঁচ জন সম্ভাব্য প্রার্থী। লড়াইটা জমে উঠেছে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামপন্থী ধারার মধ্যে।
বিএনপির পক্ষে রয়েছেন একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী। দীর্ঘদিন ধরে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে আসা দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী ও সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল এবারও আলোচনায় থাকলেও, নতুন আলোড়ন তুলেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব মো. রবিউল ইসলাম নয়ন। এলাকার সাধারণ মানুষ ও বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তাকে ঘিরেই বেশি আশাবাদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী তিন মাস আগেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অধ্যাপক এম.বি বাকের একক প্রার্থী হিসেবে সক্রিয়ভাবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তার প্রচারণা ও আত্মবিশ্বাসের ধরন বলছে, তিনি লড়াইটা হালকাভাবে নিচ্ছেন না।
নতুন ধারার রাজনীতির বার্তা নিয়ে মাঠে দেখা যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর অনুসারীদেরও। যদিও তারা সব এলাকায় কমিটি গঠন করতে পারেনি, তবুও ভোটের মাঠে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।
এ আসনে আলোচনায় আছেন আরও একজন — কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানী ড. আলী আফজাল। তিনি কৃষিবিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এলাকায় মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত। অনেকে বলছেন, তিনি হয়তো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন, যদিও এখনো নিশ্চিত নয়।
জাতীয় পার্টির অবস্থান এখনো স্পষ্ট না হওয়ায়, তারা দোটানায় রয়েছে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি মৌলিক সংস্কারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়, তবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ ঘোষণায় বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সন্দেহের অবসান ঘটেছে।
জনমত দ্বিধাবিভক্ত!
হাট-বাজার ও চায়ের দোকানে বসে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নানা মন্তব্য শোনা যাচ্ছে। কেউ বলছেন, “শহীদ জিয়ার আদর্শের দল বিএনপিই ফিরবে ক্ষমতায়, বিকল্প নেই।” আবার অনেকে বলছেন, “বড় দুই দল দেখে ফেলেছি, এবার চাই নতুন রক্ত, নতুন বাংলাদেশ।”
শেষ কথা:
এ আসনে দলীয় কোন্দল, আগাম প্রার্থী ঘোষণা, সামাজিক তৎপরতা, তরুণদের উত্থান—সবকিছু মিলিয়ে ভোটের মাঠ একেবারে উত্তপ্ত। কে হবেন শেষ হাসির অধিকারী, সেটা সময়ই বলে দেবে।
এম এ রইচ
প্রতিনিধি, মহম্মদপুর (মাগুরা)
www.daynik36july.com