মোঃ মাহফুজুর রহমান ফরহাদ
ইটনা, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
কুরআন ও সহীহ সুন্নাহভিত্তিক আদর্শ নারী গঠনের লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার সড়ক হাটি গ্রামে গড়ে উঠেছে আয়িশাহ্ সিদ্দিক্বাহ্ (রাঃ) মহিলা মাদ্রাসা। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এলাকাবাসীর আস্থা ও প্রশংসা অর্জন করেছে।
ইটনা উপজেলা সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পশ্চিমে, সড়ক হাটি পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্নে শান্ত ও মনোরম পরিবেশে অবস্থিত এই দ্বি-তল বিশিষ্ট মাদ্রাসার প্রথম তলায় অফিস কক্ষ ও হিফজ বিভাগ এবং দ্বিতীয় তলায় কিতাব বিভাগ রয়েছে। এখানে প্লে থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীদের সুশৃঙ্খল ও আদর্শ পরিবেশে পাঠদান করা হয়।
মাদ্রাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক হাফেজ মোঃ হাবীবুল্লাহ জানান, এখানে পরিপূর্ণ পর্দার সাথে আবাসিক ও অনাবাসিক উভয় ব্যবস্থাই বিদ্যমান। ছাত্রীদের থাকা ও খাওয়ার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। ইয়াতিম ছাত্রীদের জন্য রয়েছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ এবং গরিব ও মেধাবী ছাত্রীদের জন্য বিশেষ সহযোগিতা।
বর্তমানে মাদ্রাসায় ১২০ জন ছাত্রী অধ্যয়নরত রয়েছে। পাঠদানে নিয়োজিত আছেন ১১ জন অভিজ্ঞ ও দ্বীনদার শিক্ষিকা এবং একজন প্রধান শিক্ষক। প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়।
হিফজ শিক্ষায় মাদ্রাসাটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২৪ সালে ৪ জন এবং ২০২৫ সালে আরও ৪ জন ছাত্রী পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেছে, যা মাদ্রাসার জন্য গৌরবের বিষয়। পাশাপাশি আরবি শিক্ষার সাথে বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষার সুসংগঠিত ব্যবস্থাও রয়েছে, যাতে ছাত্রীরা দ্বীনি জ্ঞানের পাশাপাশি দুনিয়াবি প্রয়োজনীয় শিক্ষা অর্জন করতে পারে।
ইসলামিক দিবসসমূহ উপলক্ষে প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষামূলক আয়োজন ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়, যা তাদের মাঝে দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা ও আগ্রহ বৃদ্ধি করে।
প্রধান শিক্ষক বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো—ইটনার হাওরাঞ্চলের মানুষ যেন দূরে কোথাও না গিয়ে নিজ এলাকাতেই স্বল্প খরচে সহীহ দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। ভবিষ্যতে এখান থেকে দ্বীনদার, আদর্শ ও চরিত্রবান প্রজন্ম গড়ে ওঠুক—এই নিয়ত নিয়েই আমরা কাজ করছি।”
উল্লেখ্য, আয়িশাহ্ সিদ্দিক্বাহ্ (রাঃ) মহিলা মাদ্রাসাটি একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও অলাভজনক দ্বীনি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যারা শ্রম, সময় ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন, তাদের জন্য কর্তৃপক্ষ কৃতজ্ঞতা ও দোয়া প্রকাশ করেন।
অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে পরিচালক বলেন, যারা তাদের সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষায় গড়ে তুলতে আগ্রহী, তারা সরাসরি মাদ্রাসায় এসে পরিবেশ দেখে সন্তুষ্ট হয়ে ভর্তির সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
উল্লেখ্য, এই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন মাওলানা আব্দুস সালাম হাফিযাহুল্লাহ। তাঁর আন্তরিকতা, ত্যাগ ও দূরদর্শী চিন্তার ফসল হিসেবেই আজ প্রতিষ্ঠানটি ইটনা হাওরাঞ্চলে দ্বীনি শিক্ষার একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।