প্রতিনিধি :-মনিরুল ইসলাম
লালমাই – সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা,
যেমন বাবা তেমন ছেলে। মাদক সেবনে কেউ কারও চেয়ে পিছিয়ে নেই। পিতা মাতা সন্তান মিলে গড়ে তুলেছেন রাম রাজত্ব। তার বিগত১৭বছর ছিলো আওয়ামীলীগের ছত্রছায়ায়।এখন ভোল পাল্টিয় খাটি বিএনপি। ভাগবাটোয়ারার বিনিময়ে তাদের পৃষ্ঠপোষাকতা দিয়ে যাচ্ছে স্হানীয় বিএনপির একটি অসাধু মহল। যা স্হানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।উল্লেখ্য, কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় বিভিন্ন অভিযোগে ভাটরা গ্রাম থেকে বিতারিত হত্যা সহ একাধিক মামলার আসামী, অন্যের জমি দখলকারী, মাদকসেবী ও মদ বিক্রেতা সেবনকারী আবুল কাশেম এবং তার বখাটে ছেলে কিশোর গ্যাং এর সক্রিয় সদস্য হিসেবে বহুল পরিচিত। এলাকায় অটোরিক্সা চুরি, অস্ত্র মামলা সহ একাধিক মামলার আসামী রিয়াজ ও তার মা রিনা বেগম।
এই কুখ্যাত পরিবারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে থানায় অভিযোগ, সাংবাদিক সম্মেলন এবং বিক্ষোভ মিছিল করেছে ভূলইন উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়তুলা গ্রামের জনগন।
গত ৪ আগষ্ট তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন গ্রামবাসীর পক্ষে আবদুল কুদ্দুছ নামে এক ভুক্তভোগী। এর আগে গত ৩ আগষ্ট বেলা ১২টায় উপজেলার ভূলইন উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়তুলা মসজিদের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের এসব তথ্য তুলে ধরেন গ্রামবাসী।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় প্রায় ৩ শতাধিক বাসিন্দা ও সন্ত্রাসী পরিবারের হাতে নির্যাতিত ভুক্তভোগীরা অংশ নেন।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খোরশেদ আলম নামে এক ভুক্তভোগী।
তিনি বলেন, কাশেম ও তার ছেলে রিয়াজ,স্ত্রী রিনা বেগমের অনৈতিক কর্মকান্ডে আমরা অতিষ্ঠ। তারা হত্যা, চুরি ও অস্ত্র, জমি দখল,মাদক সহ বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত। তাদের এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করলেই শুরু হয় মারধর ও অত্যাচার।
অভিযুক্ত রজ্জবেরনেছা রিনা বেগমের পিতা মো: সোবহান মোল্লা বলেন, আমার এই মেয়েকে বিয়ে দেই ভাটরার কাশেমের সাথে। সেখানে থেকে তাদের বের করে দিলে আমি জায়গা দেই। এখন তাদের অত্যাচারে আমার পরিবার সহ গ্রামবাসী অতিষ্ঠ।
ভুক্তভোগী ছফুরা খাতুন বলেন, মসজিদে নামাজ পড়ার সময় আমার ছেলেকে মাথায় আঘাত করে কাশেমের ছেলে রিয়াজ। আমার ছেলে এখন পাগল হয়ে আছে।
ছালেহা বেগম নামে এক ভুক্তভোগী বলেন আমার স্বামী আবুল মিয়া রিকশা চালাতেন, বিনা কারণে রজ্জবেরনেছা সহ তার ছেলে মেয়েরা তাদের বাড়ি নিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আমার স্বামীকে আহত করে। এক সপ্তাহ পর আমার স্বামী মারা যায়। তাদের ভয়ে থানায় বা কোর্টে যেতে পারিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসীর স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী প্রবাসে থাকে। তাদের ভয়ে দেশে আসে না। আমি আমার সন্তান নিয়ে আতংকে থাকি কখন এসে রিয়াজ তার মা সহ আমাদের হামলা করে। তারা হুমকি দিয়েছে আমার সন্তানকে মেরে ফেলবে।
অভিযুক্ত আবুল কাশেম বলেন, আমার পরিবারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা। আদালতে মামলা চলছে। তারা আমার বাড়ি ঘর ভাংচুর করেছে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ মো : শহীদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।