April 16, 2026, 4:36 pm
শিরোনাম :
চলন্ত গাড়িতে ছিনতাইয়ের ঘটনায় এক দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ রাজধানীর শাপলা চত্বর গণহত্যার মামলার আসামি হচ্ছেন পুলিশের সাবেক আইজিপি মামুন: চিফ প্রসিকিউটর ৪০ লক্ষ টাকার জাল নোটসহ একজনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির কোতয়ালী থানা পুলিশ যাত্রাবাড়ী থানার অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৯ জন গ্রেফতার যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ কর্তৃক সিরিয়াল রেপিস্ট রাশেদুল ইসলাম রাব্বি গ্রেফতার যাত্রাবাড়ী থানার অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৬ জন গ্রেফতার। রাবিতে বেআইনীভাবে আবাসিক রুমে তল্লাশি বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে বোরহানউদ্দিনে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিজন কান্তি সরকারকে তারেক রহমানের বিশেষ সহকারী নিয়োগে রাজবাড়ীতে প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত পাওনা টাকা চাইতে গেলে পাওনাদারের পরিবারের উপর হামলা, আহত-৬, থানায় মামলা
নোটিশ :

ছেলে পড়ে ঢাকার বি.কে.এস.পিতে, তবুও অভিভাবক সদস্য!

জোনায়েদ হোসেন জুয়েল
Oplus_131072

আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটিতে বিতর্কিত সদস্য নির্বাচন নিয়ে এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া

 

জোনায়েদ হোসেন জুয়েল

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি দৈনিক৩৬জুলাই

 

 

 

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটিতে এক শিক্ষক সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, যার ছেলে বর্তমানে বিদ্যালয়ের ছাত্রই নন—সে পড়াশোনা করছে রাজধানীর বিখ্যাত ক্রীড়া প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বি.কে.এস.পি)-তে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুলের অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে চরম অসন্তোষ এবং ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়ম ভেঙে একজন অযোগ্য ব্যক্তি অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, যা পরিচালনা কমিটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
কী ঘটেছে?
জানা গেছে, আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রিপেল হাসান চৌধুরী সম্প্রতি বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন ‘অভিভাবক প্রতিনিধি’ হিসেবে। অথচ তার ছেলে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থিত সরকারি ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান বি.কে.এস.পিতে অধ্যয়নরত। ফলে তাকে অভিভাবক সদস্য হওয়ার জন্য যোগ্য বিবেচনা করার বৈধতা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, রিপেল হাসান চৌধুরীর ছেলে অষ্টম শ্রেণিতে আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও, ভর্তির পরপরই সে বি.কে.এস.পিতে স্থানান্তরিত হয়। এরপরও কোনোপ্রকার তথ্য সংশোধন ছাড়াই তাকে অভিভাবক সদস্য হিসেবে নির্বাচন করা হয়। বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিসের কাছেও অজানা রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিভাবকদের ক্ষোভ
স্থানীয় অভিভাবকরা অভিযোগ করছেন, “এই ধরনের প্রক্রিয়া দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বের শামিল। একজন সদস্য যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকেন, তখন তার সন্তানের সেই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র হওয়া উচিত। অন্যথায় এটি প্রতারণার শামিল।”
অন্য এক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমাদের ছেলে-মেয়েরা এই স্কুলে পড়ে, অথচ প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন এমন একজন, যাঁর ছেলে অন্য শহরের স্কুলে। এটা কীভাবে হয়?”
স্কুল কর্তৃপক্ষের নিরবতা
বিষয়টি নিয়ে আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুবকর ছিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাঁর এই নিরবতায় আরও বিভ্রান্তি এবং অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষা অফিসের অজ্ঞতা
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আমাদের কাছে এখনো কোনো তথ্য নেই যে, রিপেল হাসান চৌধুরীর সন্তান বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে পড়ছে না। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে।”
নিয়ম কী বলে?
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, অভিভাবক সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রার্থীকে অবশ্যই তার সন্তানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত থাকার প্রমাণ থাকতে হবে। অন্যথায় তা বাতিলযোগ্য।
এলাকাবাসীর দাবি
এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা দাবি করছেন, এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে সদস্যপদ বাতিল ও স্বচ্ছ উপায়ে পুনরায় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কঠোর নজরদারির দাবি জানান ৷
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিয়মনীতি রক্ষা না হলে শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট হয়—আর এ ধরনের ঘটনা তারই একটি দৃষ্টান্ত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিদ্যালয়ের সুনাম ও অভিভাবকদের আস্থার প্রতিফলন ঘটানো।

www.daynik36july.com



আমাদের পেজ লাইক করুন