October 28, 2026, 3:44 am
শিরোনাম :
মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললেই হামলার অভিযোগ—কালিকাপুরে মাদক সিন্ডিকেটের দাপট? আতঙ্কে তরুণ সমাজ, উঠছে নানা প্রশ্ন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে কুড়িগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সরকারি বাঙলা কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত কারো বক্তব্য প্রচার বন্ধ রাখা যায় না, সরাইলে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা! কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে হামলার ভিডিও ধারণ করার সাংবাদিকদের ডান হাতের কাঁধ ভেঙে দিল ছাত্রদলের দুর্বৃত্তরা হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ নাসিরনগরে কৃষি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, জনতার হাতে এক প্রতারক আটক ‎প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, ‎বাজারের অস্থিরতায় লাগাম টানতে চাই কার্যকর ‎পদক্ষেপ, পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে খুচরা দাম, নাসিরনগরে কাঁচামরিচের কেজি ছাড়ালো ৩০০ টাকা
নোটিশ :

রাজবাড়ীর কালুখালীর চরে বাড়ছে বাদাম চাষ, কৃষকের মৃদু ক্ষোভ

আক্কাস আলী খান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি

আক্কাস আলী খান
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

কম খরচ, কম পরিশ্রমে বেশি ফলন এবং বাজারে ভালো দামের কারণে রাজবাড়ীর কালুখালীর চরাঞ্চলে দিন দিন বাড়ছে বাদাম চাষ। এতে কৃষকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নতুন আগ্রহ ও সম্ভাবনা। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বাদামের গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশজুড়ে এর চাহিদাও বাড়ছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বাদাম চাষের পরিধি আরও বাড়াতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের সহযোগিতায় বীজ সহায়তা, প্রণোদনা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। অথচ এরই মাঝে কোনো কোন কৃষকের অন্তরে বিরাজ করছে মৃদু ক্ষোভ।

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ভবানীপুর, কালিকাপুর, হরিণবাড়ীয়াচরসহ সাওরাইল, মদাপুর, রতনদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বাদাম চাষ হচ্ছে।
আগের তুলনায় বাদামের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে আবাদ। কৃষকদের ভাষ্য, বাদাম চাষে সার বা বিষের প্রয়োজন হয় না। ফলে খরচ কম এবং লাভ বেশি। এক বিঘা জমিতে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ব্যয় করে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার ফসল বিক্রি করা সম্ভব। এ ছাড়া বাদাম চাষ শেষে একই জমিতে অন্য ফসল চাষও করা যায়।

রতনদিয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর গ্রামের কৃষক মোঃ মানিক শেখ, শহীদ শেখ, শাহজালাল শেখ, সাবু শেখ, মোঃ জয় শেখ, কামাল কাজী ও মোঃ রবিন শেখ বলেন, ‘এ বছর আমরা সকলে মিলে প্রায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। প্রায় ২ লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আল্লাহ ভরসা, ফসল ভালো হলে ৫ লাখ টাকার মতো বিক্রি হবে।’ অবশ্য কিছু সংখ্যক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, আমরা চরাঞ্চলের মানুষ কোনোপ্রকার কৃষি সহায়তা পাই না। কৃষি অফিসের কোনো মানুষ আমাদের এখানে আসে না। আমরা শুনি কৃষিতে অনেক ধরনের প্রণোদনা দিয়ে থাকে কিন্তু তা আমাদের পর্যন্ত পৌছায়না। তবু্ও আমরা আমাদের জীবিকার তাগিদে চরের জমিতে চাষাবাদ করে সংসারের চাহিদা পূরণ করে থাকি।

জেলার কালুখালী উপজেলা চলতি মৌসুমে বাদাম চাষের একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও কৃষক পিছ পা হয়েছে। এরই মধ্যে আবাদ রতনদিয়া ইউনিয়নে ১৫০ হেক্টর, কালীকাপুর ইউনিয়নে ১ হেক্টর, মদাপুর ইউনিয়নে ১ হেক্টর ও সাওরাইল ইউনিয়নে ৪ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। তাই বাদাম সংগ্রহ, শুকানো ও বাছাইসহ বিভিন্ন ধাপে স্থানীয় নারী-পুরুষদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।

কালুখালী উপজেলা কৃষি অফিসার পুর্ণিমা হালদার জানান, যেসব জমিতে অন্য ফসল হয় না; সেসব পতিত জমিতে বাদাম চাষ করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন বাড়ছে, কৃষক লাভবান হচ্ছেন। আমরা নিয়মিতভাবে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছি।’



আমাদের পেজ লাইক করুন