বাজার তদারকির অভাবেই মূল্যবৃদ্ধি—অভিযোগ ক্রেতাদের
মোঃজোনায়েদ হোসেন জুয়েল,কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি দৈনিক৩৬জুলাই
কিশোরগঞ্জে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে চলছে লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি। বিশেষ করে শাকসবজি ও ডিম-মুরগির দাম বেড়ে যাওয়ায় নাজেহাল অবস্থায় পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। বাজারে গেলেই চোখে পড়ে ভোক্তাদের অস্বস্তি, আর বিক্রেতাদের দাপট। প্রতি সপ্তাহেই বেড়ে চলেছে সব ধরনের পণ্যের দাম। কিন্তু এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে নেই কোনো কার্যকর ব্যবস্থা।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সরেজমিনে কিশোরগঞ্জ শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সবজির দাম ৮০ টাকার ওপরে। করলা ১৩০, কাঁকরল ৮০, পটল ৮০, ঢেঁড়স ৯০, বরবটি ৯০-১০০, বেগুন ৮০, চিচিঙ্গা ৮০, ধুন্দল ৮০, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টমেটো বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৮০ টাকায়। প্রতিপিস লাউ ও চাল কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১০০ টাকায়। আর কাঁচা মরিচের দাম পেরিয়ে গেছে ২৪০ টাকা কেজি।
ভোক্তাদের দাবি, বাজারে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই। একই পণ্যের দাম একেক দোকানে একেক রকম। ফলে খুচরা ক্রেতাদের পকেট থেকে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।
কৃষকদের ক্ষেতেও দুর্ভোগ
পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে ক্ষেতের ফসল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। পানির নিচে ডুবে গেছে অনেক সবজি ক্ষেত। ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি সরবরাহেও দেখা দিয়েছে সংকট। পাশাপাশি পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াও দাম বৃদ্ধির একটি বড় কারণ বলে জানান তারা।
ডিম-মুরগির দামেও আগুন
শুধু সবজির বাজার নয়, প্রোটিনের উৎস হিসেবে পরিচিত ডিম ও মুরগির বাজারেও আগুন। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫০ টাকা। আর সোনালি মুরগির দাম ৩১০-৩২০ টাকায় পৌঁছেছে। ডিমের দাম প্রতি ডজন ১৫-২০ টাকা বেড়ে এখন ১৪০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই
ইলিশের দাম কিছুটা কমলেও রুই, কাতলা, পাঙাশসহ অন্যান্য মাছের দাম রয়েছে আগের উচ্চমাত্রায়। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মুদি দোকানের তেল, ময়দা, আটা ইত্যাদির দামও।
পেঁয়াজের দাম কমেও কমেনি খুচরায়
পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব নেই। বর্তমানে কিশোরগঞ্জে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়, যেখানে এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৫০-৫৫ টাকা।
ভোক্তা ও বিক্রেতার বক্তব্য
সবজি বিক্রেতা দুলাল বলেন, “এই মুহূর্তে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। বৃষ্টির কারণে কৃষকদের ক্ষেতের সবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে।”
অন্যদিকে ক্রেতা ইসলাম বলেন, “আমাদের দৈনিক আয় ৫০০-৬০০ টাকা। এই বাজারে এসে ২০০ টাকার সবজি কিনতেও ভয় লাগে। কোথাও কম পাওয়া যায় কি না, সেই আশায় এক বাজার থেকে আরেক বাজারে ছোটাছুটি করতে হয়। কিন্তু কোথাওই কম না।”!
প্রশাসনের অবস্থান
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কিশোরগঞ্জ জেলার সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “টানা অতিবৃষ্টিসহ নানা কারণে বর্তমানে বাজারে সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে পাইকারি পর্যায়ে যাতে সরবরাহ ঠিক থাকে সেদিকে আমাদের নজর রয়েছে। এছাড়া চাল, ডাল, তেলসহ অন্যান্য পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং অব্যাহত আছে।”
সবজির বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের আরো কার্যকর তদারকি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে সুসংহত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। নইলে বাজারে স্বস্তি ফিরবে না, আর ভোক্তাদের কষ্ট আরও বাড়বে—এটাই বলছে কিশোরগঞ্জের বর্তমান বাজার বাস্তবতা।