নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক৩৬জুলাই | যাত্রাবাড়ী, ঢাকা | ১২ জুলাই ২০২৫
দাম যেন আগুন, পণ্য কেবল মরিচ! যাত্রাবাড়ীসহ ঢাকার প্রতিটি কাঁচা বাজারে আজ যেন মরিচ নয়, বিক্রি হচ্ছে ধিক্কার। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ৩০০ থেকে ৩২০ টাকার ঘরে—যেখানে ঠিক এক সপ্তাহ আগেও তা ছিল ১০০–১৫০ টাকার মধ্যে। এ যেন অজুহাতের আগুনে পুড়ছে জনজীবন।
❝সিন্ডিকেট নামক দানব
মূল চালিকাশক্তি কে? পাইকারি বাজারে কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে যে সিন্ডিকেট, তারাই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে রেখেছে বলে অভিযোগ ক্ষুব্ধ খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেই, উৎপাদনেও বড় ঘাটতি নেই—তবু হঠাৎ করে এই মূল্যবৃদ্ধি কে ব্যাখ্যা দেবে?
একজন ক্ষুদ্র বিক্রেতা জানালেন,
> “দুইদিন আগে আমি এক বস্তা মরিচ ১৮০ টাকায় কিনেছি, আজ সেই একই মরিচ ২৯০–৩০০। আমাদেরও তো বিক্রি করতে হয় লাভে, কিন্তু গ্রাহক আমাদের গাল দিচ্ছে… সিন্ডিকেট কারা তা সবাই জানে, কিন্তু কেউ নাম নিতে চায় না!”
❝দায় এড়াতে ব্যস্ত প্রশাসন
খুলে বলি—প্রশাসন জানে, বাজার কর্তৃপক্ষ জানে, এমনকি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও জানেন—কিন্তু দেখার কেউ নেই। টিসিবি পণ্যে মরিচ নেই, নেই দর নির্ধারণে দৃঢ়তা। সবকিছুই যেন চলছে ‘ভবিষ্যতের অদৃশ্য হাতের’ ভরসায়।
❝জবাব চাই!
এই দুর্যোগে সবচেয়ে কষ্টে পড়েছে নিম্নবিত্ত ও দিনমজুর পরিবার। একজন গৃহবধূ ক্ষোভ ঝাড়লেন,
> “আমাদের রান্নায় মরিচ লাগে—এইটুকু চাহিদা কি বিলাসিতা? আজ দেখি ডিম, মরিচ আর চাল—তিনটাই এখন ধনীদের খাবার!”
❝গণদাবি:
১. কাঁচা বাজারে সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকারি মনিটরিং টিমের তাৎক্ষণিক অভিযান চাই
২. সবজির পাইকারি ও খুচরা দামে ডিজিটাল ডিসপ্লে বাধ্যতামূলক করা হোক
3. প্রতিটি আড়ৎ ও বাজারে নির্দিষ্ট সময় অন্তর দাম তালিকা প্রকাশ করা হোক
৪. প্রয়োজনে সেনাবাহিনী দিয়ে নাগরিক বাজার পরিদর্শন চালু করা হোক
—
এই প্রতিবেদন শুধু তথ্য নয়, এটা প্রতিবাদ!
যদি প্রশাসন এখনো না জাগে, তবে দিন শেষে বাজার হবে ধনীদের জন্য আর মরিচও হবে রূপকথার গল্প।
জনগণ চায় না ১০ টাকার লোভে ১০ কোটি মানুষের ভাত কেড়ে নেওয়া হোক।
এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন, আওয়াজ তুলুন—’সিন্ডিকেট ভাঙো, বাজার বাঁচাও’!
www.daynik36july.com