🟥 স্মৃতি জুলাই যোদ্ধা: ৪১ বুলেট শরীরে নিয়ে বেঁচে থাকা রাশেদ ভাই, আর হোটেল কর্মচারীর মৃত্যু—এটাই কি আমাদের “বিপ্লব”?
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক | ২০ জুলাই, ২০২১
একজন হোটেল ব্যবসায়ী, আমাদের পরিচিত মুখ, হৃদয়ের মানুষ রাশেদ হোসাইন ভাই।
২০২১ সালের ২০ জুলাইয়ের সেই বিভীষিকাময় দিনে, যখন ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়কে গুলিতে প্রাণ হারায় ৩০-৩৫ জন নিরীহ মানুষ, তখন মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে ৪১টি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বেঁচে যান রাশেদ ভাই। তাঁর শরীর ছিল ঝাঁঝরা, পিঠে গুলির চিহ্ন যেন প্রতিটি সেকেন্ডে চিৎকার করে বলে—”আমি বেঁচে আছি, কিন্তু কী মূল্য দিয়ে?”
আর সেই একই জায়গায়, উনার হোটেলের এক কর্মচারী মারা যান গুলিতে। আজ তাঁর আর কোনো পরিচয় নেই, নেই কোনো সরকারি সহানুভূতি, নেই কোনো ক্ষতিপূরণ।
পিঠ জুড়ে শত শত গুলির ছিদ্র। হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে রাশেদ ভাই। আর নিচের ছবিতে দেখা যাচ্ছে সেই প্রিয় মুখ—যে এখন ত্যাগীর পরিচয়ে নয়, রাজনীতির ব্যবসায়িক ব্যানারে ব্যবহার হচ্ছে।
ঘটনার পর কেটে গেছে অনেক মাস, অনেক বছর। কিন্তু আজও রাশেদ ভাইয়ের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়নি।
বরং তাঁর এবং তাঁর শহীদ সহকর্মীর ত্যাগকে কাজে লাগিয়ে এনসিপির কিছু নেতা বিপ্লবের নামে বাণিজ্য করছে।
তারা প্ল্যাকার্ড বানাচ্ছে, ব্যানার টাঙাচ্ছে, ফেসবুকে ছবি দিচ্ছে।
কিন্তু রাশেদ ভাই এখনও নিজের গুলিভর্তি শরীর নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই করছেন—নিঃশব্দে।
এই প্রতিবেদন শুধু সাংবাদিকতার দায় থেকে নয়,
একজন মানুষ, একজন বিবেকবান নাগরিক হিসেবে লেখা।
আমরা চাই:
একজন রাশেদ ভাইয়ের গুলিভর্তি শরীর শুধু ব্যথার চিহ্ন নয়—এটা আমাদের নীরবতার বিরুদ্ধে এক জাগরণ।
প্রকাশনায়: www.daynik36july.com
গ্রাফিক ও প্রতিবেদন সহায়তা: দৈনিক৩৬জুলাই টিম