গত ৯ মাসে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মী এবং তাদের ও শহীদদের পরিবারের ওপর মোট ৩৭টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার ৩৪টি ঘটেছে আন্দোলনে জড়িত ব্যক্তিবর্গ ও তাদের পরিবারের ওপর। বাকি তিনটি ঘটেছে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের পরিবারের ওপর।
গত ৯ মাসে বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে হামলার এ হিসেব পেয়েছে বাংলাদেশের তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান বাংলা ফ্যাক্টচ্যাক।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে শনিবার (৩ মে) পর্যন্ত মোট ৩৬টি হামলার হিসাব দেখানো হয়েছে। রোববার (৪ মে) জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহর গাড়িতে হামলার ঘটনার মধ্য দিয়ে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭টিতে।
বাংলা ফ্যাক্টচ্যাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহম্মদপুরে আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন ঢাকার একটি এনজিওর গাড়িচালক জসিম উদ্দিন হাওলাদার। এর ১০ দিন পর, ২৯ জুলাই হাসপাতালে মারা যান তিনি। গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর দুমকীতে দাফন করা হয় তাকে।
তার কবর জিয়ারত করতে গিয়ে গত ১৮ মার্চ ধর্ষণের শিকার হন শহীদ জসিমের ১৭-বছর-বয়সী মেয়ে। দীর্ঘ মানসিক পীড়নে ভোগার পর মেয়েটি গত ২৬ এপ্রিল ঢাকার শেখেরটেকের ভাড়া বাসায় আত্মহত্যা করেন। দৈনিক সমকাল এ নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। শহীদ জসিমের স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রতিবেদককে বলেন, দুর্বিষহ ঘটনার পর মেয়েকে একলা ছাড়িনি। এতদিন লগে লগে রাখছি। জামাই গেল, মাইয়ারেও বাঁচাইতে পারলাম না।
এর ঠিক পরদিন নোয়াখালীর মাইজদীতে জুলাই আন্দোলনের আরেক শহীদ মাহমুদুল হাসান রিজভীর ছোটভাই ১৬ বছর বয়সী শাহরিয়ার হাসানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। হামলার ঘটনা নিয়ে দৈনিক প্রথম আলোতে এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নোয়াখালী জেলা সমন্বয়ক আরিফুল ইসলামের দৈনিকটিকে বলেন, কিশোর গ্যাংটির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক রয়েছে।
বাংলা ফ্যাক্টচ্যাক বলছে, এখন পর্যন্ত (৩ মে পর্যন্ত) বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে গত নয় মাসে ৩৬টি হামলার তথ্য জানা গেলেও এর বাইরে আরও হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে, যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি অথবা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও গবেষণা সীমাবদ্ধতার কারণে ফলাফলে উঠে আসেনি।
মোট নয়টি হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত সরাসরি রাজনৈতিক দল বা গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ান কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে হামলাকারীদেরকে সন্ত্রাসী, দুর্বৃত্ত অথবা ছিনতাইকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।