October 29, 2026, 9:24 am
শিরোনাম :
মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললেই হামলার অভিযোগ—কালিকাপুরে মাদক সিন্ডিকেটের দাপট? আতঙ্কে তরুণ সমাজ, উঠছে নানা প্রশ্ন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে কুড়িগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সরকারি বাঙলা কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত কারো বক্তব্য প্রচার বন্ধ রাখা যায় না, সরাইলে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা! কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে হামলার ভিডিও ধারণ করার সাংবাদিকদের ডান হাতের কাঁধ ভেঙে দিল ছাত্রদলের দুর্বৃত্তরা হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ নাসিরনগরে কৃষি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, জনতার হাতে এক প্রতারক আটক ‎প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, ‎বাজারের অস্থিরতায় লাগাম টানতে চাই কার্যকর ‎পদক্ষেপ, পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে খুচরা দাম, নাসিরনগরে কাঁচামরিচের কেজি ছাড়ালো ৩০০ টাকা
নোটিশ :

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দৃষ্টি হারানো সাব্বিরের নতুন বাংলাদেশ দেখার স্বপ্ন

মনিরুল ইসলাম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দৃষ্টি হারানো সাব্বিরের নতুন বাংলাদেশ দেখার স্বপ্ন (দৃষ্টি হারানোর এক বছর)
জুলাই দৃষ্টি হারানো সাব্বির

 

 

 

 

প্রতিনিধি :-মনিরুল ইসলাম
লালমাই – সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা,

 

 

 

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার চৌকনন্দী গ্রামের বাসিন্দা সাব্বির আহমেদ (২৬)। ঢাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। পড়তেন নয়াটলা এইউএন মডেল কামিল মাদরাসার ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষে। পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করতেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেলস অফিসার হিসেবে।
রাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তবুও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে অংশ নেন গত বছরের ৪ আগস্ট ঢাকার কাওরান বাজারের ছাত্র-আন্দোলনে। সেই এক বিকেলের আন্দোলনই বদলে দেয় তার জীবন। পুলিশের ছোড়া একটি গুলিতে চিরতরে হারান দু’চোখের আলো।

গভীর হতাশা আর অন্ধকার নেমে আসে শুধু তার নয়, গোটা পরিবারেই। আন্দোলনে দৃষ্টি হারানো অন্যরা কেউ কেউ পেয়েছেন বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ। কিন্তু সাব্বিরের ভাগ্যে তা জোটেনি।

সেই দিনের স্মৃতি এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় তাকে।

সাব্বির বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক দলের ডাকে আন্দোলনে যাইনি। দেশের ভালোবাসা থেকেই অংশ নিয়েছিলাম ছাত্রদের আন্দোলনে। ৪ আগস্ট বিকেলে আমরা সোনারগাঁ মোড়ে অবস্থান নিই। হঠাৎ ওয়াসা ভবনের দিক থেকে ছোঁড়া গুলি আমার ডান চোখ দিয়ে ঢুকে বাম চোখ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এক গুলিতেই দু’চোখ শেষ।
তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সহযোদ্ধারা প্রথমে পিজি হাসপাতালে, পরে নিউরোসায়েন্স, ঢাকা মেডিক্যাল, চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ঘুরিয়ে সিএমএইচ-এ ভর্তি করেন। দীর্ঘ এক মাস চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা জানান, রেটিনা, কর্নিয়া, ভিশন শেষ। দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা নেই।
এই ভয়াবহ বাস্তবতার মধ্যেও নতুন জীবনের আশায় বুক বাঁধছেন সাব্বির।
তিনি জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বিয়ে করেছি। বাবা, মা, স্ত্রী, তিন ভাই ও দুই বোন নিয়ে আমাদের সংসার। সরকারিভাবে ৬ লাখ টাকা সহায়তা পেয়েছি, যা ইতোমধ্যে চিকিৎসা ও পরিবারের কাজে ব্যয় হয়ে গেছে। জুলাই যোদ্ধা হিসেবে (কেস আইডি ২৮৭৩২, গেজেট নম্বর ১৯৩) সরকারি স্বীকৃতি পেয়েছি, কিন্তু আমাদের প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা।

পরিবারের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তিনি চান তার স্ত্রী ও ভাইয়ের জন্য কর্মসংস্থান হোক। বলেন, ‘আমার স্ত্রী নুরুন্নাহার বিনতে ফাজিল ১ম বর্ষে, আর ভাই আবিদুর রহমান ওসামা দাওরা হাদিসে পড়ে। ওদের কাজের ব্যবস্থা হলে পরিবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।’

www.daynik36july.com



আমাদের পেজ লাইক করুন