“পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসী মুসলিম উম্মাহকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, যেন তিনি আমাদের জীবন সুখ-সমৃদ্ধি ও শান্তিতে পরিপূর্ণ করেন। ঈদ মোবারক।”
ঈদুল আযহা মুসলিম জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব, যার মূল বার্তা ত্যাগ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ বলেন—”তোমাদের কোরবানির মাংস কিংবা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, বরং পৌঁছায় তোমাদের মনোবাসনা ও তাকওয়া।” এ তাকওয়া থেকেই কোরবানির মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে।
প্রতি বছর এই উৎসব আসে আত্মশুদ্ধি, আত্মত্যাগ আর আত্মতৃপ্তির পবিত্র বার্তা নিয়ে। কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সামাজিক বৈষম্য—এসব সত্ত্বেও ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে আত্মিক পরিতৃপ্তি। ফ্যাসিবাদী শাসনের দীর্ঘ দেড় দশক পার করে গত ৫ আগস্টের পর দেশ এক নতুন পরিবর্তনের পথে। এ বছর মানুষ কিছুটা স্বস্তির মধ্য দিয়ে ঈদ উদযাপন করছে।
আমাদের সমাজে দীর্ঘ সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদ, লুটপাট, দুর্নীতি এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আজ সময় এসেছে সমাজে ন্যায়বিচার, শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নত নৈতিকতার নতুন সূচনার। যেন ভবিষ্যতে আর কোনো অবৈধ শাসন, অমানবিক শোষণ বা মূল্যবোধের অবক্ষয় সমাজকে গ্রাস করতে না পারে।
ঈদুল আযহার মূল শিক্ষা কেবল পশু কোরবানিতে সীমাবদ্ধ নয়—এটি আমাদের অন্তরের অহংকার, লোভ, হিংসা ও স্বার্থপরতাকেও ত্যাগ করার শিক্ষা দেয়। কোরবানির এই চেতনা সমাজে ঐক্য, সংহতি ও মানবিক মূল্যবোধের বন্ধনকে শক্ত করে।
এই উপলক্ষে আমি আবারও দেশবাসী ও প্রবাসী সকল মুসলমান ভাই-বোনদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। ঈদুল আযহার পবিত্রতা আমাদের সকলের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়ে দিক, এই প্রার্থনা করি।
ঈদ মোবারক