মো: নাজমুল ইসলাম ছাকিব | বাঙলা কলেজ প্রতিনিধি
সরকারি বাঙলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর তানজিদা হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে তার কর্মজীবনের ইতি টানলেন গত মঙ্গলবার (৯ জুলাই)। প্রায় দেড় দশক ধরে এই ক্যাম্পাসে শিক্ষকতা করে তিনি হয়ে উঠেছিলেন শিক্ষার্থীদের নির্ভরতার প্রতীক, সহকর্মীদের জন্য এক প্রেরণার নাম।
১৪তম বিসিএসের মাধ্যমে শিক্ষকতা জীবন শুরু করা এই শিক্ষিকা প্রথম যোগ দেন বগুড়ার সরকারি মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজে। এরপর দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে কর্মরত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ (২০০১–২০০৪), কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ (২০০৪–২০০৮), এবং সর্বশেষ দীর্ঘ সময় বাঙলা কলেজে (২০০৮–২০২৫)। এর আগে তিনি ১৯৯৪ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্তও বাঙলা কলেজে শিক্ষকতা করেছেন—যা যেন পুরোনো ঘরে ফিরে আসার মতোই।
ছাত্রদের ভালোবাসা, সহকর্মীদের শ্রদ্ধা—এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন।
তানজিদা হোসেন শিক্ষার্থীদের ক্লাসের গণ্ডি ছাড়িয়ে নিজের মমতাময়ী আচরণ দিয়ে আপন করে নিয়েছিলেন। কারো অসুবিধার কথা শুনে নিজ থেকেই খোঁজ নেওয়া, ফোন করা, সহায়তা করা—এ সবই ছিল তার স্বভাবজাত। ক্লাসে তিনি শুধু একজন শিক্ষিকা নন, ছিলেন এক অভিভাবক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স (১৯৮৬) ও মাস্টার্স (১৯৮৭) শেষ করেন তিনি। এর আগে ময়মনসিংহ মুমিনুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।
বিদায় অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে গেয়ে ওঠে গান, যা শুনে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি প্রফেসর তানজিদা হোসেন। কান্নাভেজা সেই মুহূর্তে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—এই বিদায় শুধুই চাকরির সমাপ্তি নয়, বরং এক ভালোবাসার অধ্যায়ের শেষ।
অধ্যক্ষ প্রফেসর কামরুল হাসান বলেন,
“জীবনে অঢেল সম্পদ নয়, মানুষের ভালোবাসা অর্জন করাই বড়। প্রফেসর তানজিদা হোসেন সেই বিরল শিক্ষকদের একজন, যিনি শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।”
শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক নাহিদা পারভিন বলেন,
“শিক্ষকদের জীবনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো ছাত্রদের ভালোবাসা ও স্মৃতিতে টিকে থাকা। আপা ছিলেন সদা হাস্যোজ্জ্বল। তাঁর সেই হাসিমাখা মুখটাই আজ সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে।”
দীর্ঘ পথচলার শেষে তাঁর রেখে যাওয়া শিক্ষাদর্শন, মূল্যবোধ এবং সহমর্মিতা আগামী প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল দিকনির্দেশনা হয়ে থাকবে।
— শেষ নয়, এটা শুধুই বিদায়ের একটা পাতায় ভাঁজ পড়ে যাওয়া।
www.daynik36july.com