October 28, 2026, 4:26 pm
শিরোনাম :
মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললেই হামলার অভিযোগ—কালিকাপুরে মাদক সিন্ডিকেটের দাপট? আতঙ্কে তরুণ সমাজ, উঠছে নানা প্রশ্ন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে কুড়িগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সরকারি বাঙলা কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত কারো বক্তব্য প্রচার বন্ধ রাখা যায় না, সরাইলে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা! কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে হামলার ভিডিও ধারণ করার সাংবাদিকদের ডান হাতের কাঁধ ভেঙে দিল ছাত্রদলের দুর্বৃত্তরা হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ নাসিরনগরে কৃষি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, জনতার হাতে এক প্রতারক আটক ‎প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, ‎বাজারের অস্থিরতায় লাগাম টানতে চাই কার্যকর ‎পদক্ষেপ, পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে খুচরা দাম, নাসিরনগরে কাঁচামরিচের কেজি ছাড়ালো ৩০০ টাকা
নোটিশ :

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় বহরপুর বাজারের ২৫ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি বেদখল –রেকর্ড করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ: প্রশাসন নিরব ।

আক্কাস আলী খান

 

রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি;

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর হাট-বাজারের সরকারি খাস জমি রেকর্ড করে দখলের অভিযোগ। বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে লিখিত আবেদন জানানো হলেও নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা।
ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা জানান, বহরপুর হাট-বাজারের এসএ খতিয়ানভুক্ত জমির পরিমান ১.৯৯ একর (নিরা নব্বই) শতাংশ , বিএস জরিপের সময় বিভিন্ন ব্যক্তি বিএস রেকর্ডে নিজেদের মালিকানায় নামজারি করে মোট ৫৪.৮৬ শতাংশ জমি দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন।১ বছরের বেশি সময় হয় হাটবাজারের জমি অবৈধ দখল মুক্ত করার জন্য সহকারী কমিশনার ভুমি বরাবর আবেদন দিয়েছি অদ্যাবধি কোন ব্যাবস্থা নেয়া হয়নি।

 

পরিষদের দেয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা জমির দাগ নম্বর ও পরিমাণ হলো ৮১৩৩ দাগ – ৯.১৯ শতাংশ,৮১৭২ দাগ – ৬.২৫ শতাংশ, ৮১৭৪ দাগ – ৩.৮৮ শতাংশ,৮১৭৬ দাগ – ২৪.০০ শতাংশ, ৮১৭৭ দাগ – ৪.২৫ শতাংশ,৮১৭৮ দাগ – ১.৫৬ শতাংশ, ৮১৭৯ দাগ – ৪.৬৯ শতাংশ,৮১৩৬ দাগ – ০.৯৪ শতাংশ,মোট দখল–রেকর্ডকৃত খাস জমি: ৫৪.৮৬ শতাংশ।

 

অভিযোগপত্র থেকে আরও জানাযায়, বাজার পরিষদের ঘর ও কামারদের দীর্ঘদিনের টংঘর এস এ ৮১৭২ নম্বর দাগে ছিল। এ জমিটিও মালিকানা রেকর্ড করে কয়েক কোটি টাকারও বেশি মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। বর্তমান ক্রেতারা কতৃক বাজার পরিষদ অফিস এবং প্রায় ৩০ বছর ধরে কর্মরত কামার পরিবারের টংঘর উচ্ছেদের হুমকি দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।এই পরিস্থিতিতে বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারের খাস জমি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় উদ্ধার, বাজার পরিষদ কার্যালয় রক্ষা এবং কামার পরিবারের জীবিকা নিরাপদ করার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত আবেদনপত্রের অনুলিপি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, বহরপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নিকটও প্রেরণ করা হয়েছে। অদৃশ্য কারনে নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা।

 

সরেজমিনে দেখা যায় বহরপুর মধ্যে বাজার পুরাটাই সরকারি জায়গা এসএ নকশা অনুযায়ী, থাকলে ও বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাক্তি অবৈধ দখল করে স্থায়ী ঘর নির্মাণ করে দখলে রেখেছেন।ফলে বাজরের যায়গা সংকুলান হচ্ছে না।প্রশাসন কোন ব্যাবস্থা না নেয়ায় দিন দিন দখলদাররা একের পর এক দখল নিচ্ছে।
ব্যবসায়ী পরিষদের সদস্যদের দাবি “হাট-বাজার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩” অনুযায়ী খাস জমি দখল করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ আইন অনুসারে অবৈধ দখলদারের ১ বছরের কারাদণ্ড, ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং স্থাপনা বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে। তবুও বহরপুর বাজারে দখলদাররা নির্ভয়ে স্থাপনা নির্মাণ করে যাচ্ছে, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে।

 

স্থানীয় সুশীল সমাজ বলেন নিয়ম অনুযায়ী সরকারি সম্পত্তির অবৈধ দখল নিলে তার বিরুদ্ধে আইনআনুগ ব্যাবস্থা নিবেন ভুমি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা। কিন্তু বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি বেদখল হলেও নেয়া হয় নি কোন ব্যাবস্থা। বাজার পরিষদের সদস্যরা জানান ১ বছর হয় প্রশাসনের কাছে হাটবাজারের জমি উদ্ধারের বিষয়ে অভিযোগ দিলেও অদৃশ্য কারনে কোন ব্যাবস্থা নেয়া হয় নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খাস জমি অবৈধভাবে দখল হয়ে গেলে হাট-বাজারের সরকারি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বহু মানুষের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়বে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তারা গভীর ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন।দীর্ঘ দিন হাট বাজারের জমি পরিমাপ করা হয় না ফলে দখল দাররা একের পর এক দখল করে যাচ্ছে। দূত সময়ে হাট বাজরের জমি পরিমাপ করে জমির পরিমাণ নির্ধারণ করা প্রয়জন।
সহকারী কমিশনার ভুমি এহসানুল হক শিপন বলেন,”বেহাত সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। আমরা বেহাত সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
সরকারি সম্পদ দখলে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই বহরপুর বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।”



আমাদের পেজ লাইক করুন