বরগুনা প্রতিনিধি:
বরগুনার জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পরে অবশেষে তড়িঘড়ি করে সেখানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে বরগুনা জেলা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরের বরগুনা সার্কিট হাউজ মাঠের পূর্ব দিকে স্মৃতি স্তম্ভ এলাকায় একটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।
এর আগে বুধবার রাতে দেড়টার দিকে বরগুনার সার্কিট হাউস ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ সংলগ্ন জুলাই শহীদ স্মৃতি স্তম্ভের নিচের অংশে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
১১ সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় দুর্বৃত্তরা স্মৃতি স্তম্ভের বেদীতে জ্বালানি তেল ছিটিয়ে দিয়াশলাই জাতীয় কিছু দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই তারা স্থান ত্যাগ করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, ফলে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ইসলামী ছাত্রশিবির বরগুনা জেলা শাখা একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বরগুনা জেলা শাখার সেক্রেটারি গাজী হোসাইন মাহমুদ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আগেই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা উচিত ছিল। পুলিশের টহল থাকা সত্ত্বেও কিভাবে এখানে অগ্নিসংযোগ ঘটানো হলো, তা আমার বোধগম্য নয়। তবে ঘটনার পর হলেও প্রশাসন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে, এজন্য আমরা ধন্যবাদ জানাই। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
বরগুনা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. সুজন মৃধা বলেন, এত নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও এমন ঘটনার ঘটানো দুঃখজনক। এর আগে এই এলাকায় আরও কিছু ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনের কাছে আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানাই।
এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার বলেন, আমরা আগেই গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কথা বলেছি। গত রাত দেড়টার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে অগ্নিসংযোগ ঘটায়। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তবে অন্ধকার থাকায় কেউ আটক করা সম্ভব হয়নি। স্তম্ভের দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের। আমরা আগেই তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, জেলা প্রশাসক মহোদয়ও বিষয়টি জানেন। কোনো কারণে তারা আগে ক্যামেরা স্থাপন করতে পারেনি। আজকে আমরা আবারও অনুরোধ জানালে তারা দ্রুত সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে।