কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি;
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ৫নং বুরুদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে চলছে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের নানা অভিযোগে ভরপুর কার্যক্রম। স্থানীয়দের ভাষায়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (প্যানেল চেয়ারম্যান) শাজাহানই যেন পুরো ইউনিয়নের ‘একক শাসক’।
পরিষদের ১২ জন সদস্যের উপস্থিতিতে গৃহীত সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে টিআর, কাবিটা ও ১% তহবিলের টাকার কোনো সঠিক হিসাব নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ইউনিয়নে এখন ‘নিয়মিত ঘটনা’তে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি পরিষদের তহবিলে থাকা ওয়ান পার্সেন্ট খাতের একটি মোটা অঙ্কের টাকা ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সদস্যরা। পরিষদের অধিকাংশ ওয়ার্ড সদস্য জানিয়েছেন, তারা জানেনই না এ অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে।
২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাজাহান ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছেন প্রভাবশালী এক ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে—৪নং ওয়ার্ডের সদস্য আল আমিন ও ৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য লিমা খাতুন ছাড়া অন্য কাউকে তিনি পরিষদের কার্যক্রমে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এতে অনেক সদস্যই বিমাতাসুলভ আচরণের শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
এছাড়া, সমম্পতি আলমদী এলাকায় একটি পুরনো ভাঙা সেতু সংস্কারের কাজ নিয়েও উঠেছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি—অতি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, প্রকৌশল অদক্ষতা এবং কাজের তদারকির অভাবে সেতুটি টিকবে না। তাদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান নিজেই এলজিইডির নির্ধারিত কাজ করছেন, যাতে সরকারি টাকার বড় অংশ আত্মসাত করা যায়।
এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান শাজাহান বলেন, “ওয়ান পার্সেন্ট টাকার অংশ দিয়ে একটি স্কুলের গেট নির্মাণ করেছি।” তবে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি সংস্কারের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এলাকাবাসীর ভাষায়, ইউনিয়নে এখন ‘এক ব্যক্তির রাজত্ব’। তারা বলছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজের ক্ষমতাকে ‘প্রেসিডেন্টের মতো’ ব্যবহার করছেন, অথচ সাধারণ সদস্য ও স্থানীয় জনগণ হচ্ছেন অবহেলিত ও বঞ্চিত। তাদের না বলা কষ্ট এখন নীরব প্রতিবাদে রূপ নিচ্ছে।