নিজস্ব প্রতিবেদক ;
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের বত্তাতলী এলাকায় সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, জামায়াতে ইসলামীর হারবাং ইউনিয়ন নায়েবে আমীর জুনাইদ সিকদারের প্রভাবে এই বনবিনাশের ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই নেতা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নানা অনিয়ম চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি তিনি সরকারি রিজার্ভ বনের গাছ কেটে বিক্রি করে বিপুল মুনাফা অর্জন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “গাছ কাটা ছাড়াও তিনি পাহাড় কাটা, বালু উত্তোলনসহ নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত। দলীয় প্রভাব দেখিয়ে প্রশাসনের নজর এড়ানোর চেষ্টা করেন।”
বন বিভাগের সহকারী সংরক্ষক (এসিএফ) বলেন, “আমাদের টহল দলকে তিনি একাধিকবার বাধা দিয়েছেন। কর্মীরা অনুপস্থিত থাকার সুযোগে সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে কিছু কাঠ জব্দ করা হয়েছে, এবং আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা বলছেন, সংরক্ষিত বনের গাছ কাটা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, এটি প্রকৃতির প্রতি এক ভয়াবহ অন্যায়। তাদের মতে, এভাবে বন ধ্বংস হতে থাকলে চকরিয়ার পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নষ্ট হবে, নদী-খাল শুকিয়ে যাবে এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হবে।
এলাকাবাসী প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন, বন ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং সংরক্ষিত বন রক্ষায় নিয়মিত টহল ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা হোক।