কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জন্ম নিবন্ধনের জন্য সরকারি নির্ধারিত ফি’র চেয়ে তিনগুণ পর্যন্ত বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি— এই অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, অথচ কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ ও ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধনের জন্য ফি নির্ধারিত রয়েছে ৫০ টাকা। কিন্তু পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে একই কাজের জন্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি ইউনিয়ন সচিবও জড়িত বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন,
সরকারি রসিদে ৫০ টাকা লেখা থাকলেও বাস্তবে দিতে হয় ১৫০ টাকা। না দিলে নানান অজুহাতে ঘুরানো হয়। গরিব মানুষদের কাছ থেকে এভাবে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া খুবই অন্যায়৷
আরেক সেবা গ্রহণকারী নারী, রুবিনা আক্তার, ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
জন্ম নিবন্ধন করা এখন যেন ব্যবসা হয়ে গেছে। সরকারি অফিসে গেলে মনে হয় বাজারে দরদাম চলছে৷
অভিযোগ রয়েছে, অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ‘নথি যাচাই’ ও ‘তথ্য সংশোধন’-এর নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন। এতে প্রতিদিন অনেক সেবাগ্রহীতা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
এই বিষয়ে পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সুরুজ-এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দিতে পারেননি।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, সরকারি সেবা জনগণের মৌলিক অধিকার। জন্ম নিবন্ধন সেবাকে কেন্দ্র করে এই ধরনের দুর্নীতি ও অতিরিক্ত ফি আদায় প্রশাসনের নজরে আনা জরুরি। তারা অবিলম্বে একটি স্বচ্ছ তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধনের ফি ০ থেকে ৩ বছরের শিশুদের জন্য ৫০ টাকা এবং ৩ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারে প্রযোজ্য। কিন্তু মাঠপর্যায়ে এই নিয়ম মানা হচ্ছে না— এমন অভিযোগ অনেক ইউনিয়ন থেকেই পাওয়া যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।