ইটনা কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি।
দেখতে দেখতে কেটে গেছে আটটি দিন। গত শুক্রবার পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন আমার প্রিয় নানু। কিন্তু এই অল্প সময়েই টের পাচ্ছি, তাঁর শুন্যতা কত গভীর, কত বেদনাময়।
এখন আর কেউ বলে না,
“ফরহাদ, খেয়েছিস কিনা?”
কেউ আর জিজ্ঞেস করে না,
“নামাজ পড়িস তো? বিপদে ধৈর্য হারাইস না, আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখিস।”
বাড়ির উঠানের সেই পথে এখন আর কেউ অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে না। চৈতি রাতের দখিনা হাওয়ায় বসে রূপকথার গল্প শোনার দিনগুলো আজ শুধুই স্মৃতি।
প্রতি রমজান মাসে নানু বলতেন—
“তোরা ঘুমিয়ে আসস, কোন সময় সেহরির রান্না করবি আর কোন সময় খাবি?”
সেই কণ্ঠ, সেই স্নেহমাখা আদর আজ আর কোথাও শোনা যায় না।
গত শুক্রবার হাসপাতালে নেয়ার পর নানু কাঁপা গলায় বলেছিলেন,
“ফরহাদ ভাই, আমার হাতের স্যালাইনটা খুলে দে, আমি জিরাইয়া লই… আমি হয়ত আর বাঁচব না, কলিজায় খুব ব্যথা পাইতাছি।”
কে জানত, এ কথাই হবে তাঁর শেষ উচ্চারণ?
অল্প পরেই তাঁকে দেখতে হয়েছিল সাদা কাফনের কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায়— নিথর, নীরব।
এখন আর কেউ বলে না,
“ভাই, তোর কোমরের ব্যথাটা কেমন?”
সন্ধ্যার নামাজ শেষে কেউ সুরা পড়ে শরীরে ফুঁ দিয়ে দোয়া করে না।
স্বপ্নেও আর দেখা মেলে না তোমার।
আরও কষ্ট হয় যখন সেই ঘরে যাই—
যে ঘরে তুমি থাকতে, যে চৌকিতে বসে নামাজ পড়তে, যে জায়নামাজে সিজদায় ঝুঁকে আল্লাহর দরবারে কান্না করতে—
সবকিছুই এখনো ঠিক আগের জায়গায় আছে।
চৌকিটি, জায়নামাজটি, তসবিহটি—সবই যেন তোমার গায়ের গন্ধ মেখে আছে।
ওগুলো দেখলে নিজের চোখ থেকে অজান্তেই বেদনার পানি ঝরে পড়ে।
মনে হয়, তুমি বুঝি এখনো আছ, একটু পরেই হয়তো নামাজে বসবে… কিন্তু বাস্তব বড় নির্মম—তুমি আর নেই।
মহান আল্লাহর কাছে আমার একটাই প্রার্থনা—
আল্লাহ যেন আমার নানুকে শুক্রবারের উছিলায় মাফ করে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।
সেই সঙ্গে আমার প্রিয় পিতা, দাদা, দাদি, চাচা ও চাচিকেও পরম শান্তি দান করুন।
নানু, তোমাকে ছাড়া বাড়িটা এখন কেমন ফাঁকা লাগে…
তুমি চলে গেছ, কিন্তু তোমার মায়া, তোমার দোয়া, তোমার ভালোবাসা রয়ে গেছে প্রতিটি নিশ্বাসে, প্রতিটি স্মৃতিতে।
🕊️ স্মরণে: মোঃ মাহফুজুর রহমান ফরহাদ ও সকল নাতি নাতনী।