মোঃজোনায়েদ হোসেন জুয়েল
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি দৈনিক ৩৬জুলাই
সারা দেশের মতো কিশোরগঞ্জ জেলাতেও সাড়ম্বরে পালিত হতে যাচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। এ বছর জেলায় ৩৮৫টি পূজামণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় মণ্ডপের সংখ্যা ৬১। ব্যক্তিগত উদ্যোগেও কিছু স্থানে পূজা আয়োজনের কারণে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জেলার প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তায় আনসার-ভিডিপির সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ জেলা আনসার ও ভিডিপির কমান্ড্যান্ট
মোঃ আশরাফুল হক জানান, প্রথম ধাপে ২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে ৩৮৫টি পূজামণ্ডপে ৯৬৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। দ্বিতীয় ধাপে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত ৬ দিন সর্বমোট ২৫০৮ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে।
এর পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২টি স্ট্রাইকিং ফোর্স সর্বদা প্রস্তুত থাকবে এবং বিসর্জনের সময় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।
সদর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষক মোবারক হোসেন জানান, শুধু সদর উপজেলাতেই প্রথম ধাপে ১৫২ জন এবং দ্বিতীয় ধাপে ৩৯৬ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
পূজা উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ৬টি ভিজিল্যান্স টিম গঠন করেছে।
এ টিমগুলো পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা ও সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ হাছান চৌধুরী বিপিএম, অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেছেন ও প্রস্তুতিমূলক সভায় অংশ নিয়েছেন।
সম্প্রতি ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী কিশোরগঞ্জ শহরের কালীবাড়ি মন্দির পরিদর্শন করেন। তিনি পূজার সার্বিক প্রস্তুতি ঘুরে দেখেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দেন।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, প্রায় সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। এদিকে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নাটক, গানসহ নানা আয়োজন নিয়ে মহড়া শুরু করেছে। স্থানীয় মার্কেটগুলোতেও জমে উঠেছে পূজার কেনাকাটা।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ বলেন, “শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।