বাঙলা কলেজ প্রতিনিধি :নাজমুল ইসলাম ছাকিব ;দৈনিক ৩৬ জুলাই
সরকারি বাঙলা কলেজের বহুল প্রতীক্ষিত শহীদ সাগর ছাত্রাবাস উদ্বোধনের পরও এখনো কার্যকরভাবে চালু হয়নি। এর ফলে আবাসন সংকটে পড়া অসংখ্য শিক্ষার্থী চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও স্বপ্ন অপূর্ণ
বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক ও নিরাপদ ছাত্রাবাসের দাবি দীর্ঘদিনের। সেই দাবির অংশ হিসেবে গত কয়েক মাসে প্রশাসন নানা পদক্ষেপ নেয়।
১৫ এপ্রিল থেকে ৩০ মে ২০২৫ পর্যন্ত ছাত্রাবাসে ভর্তির আবেদন গ্রহণ করা হয়।
১৭ জুন ২০২৫ তারিখে বিভাগভিত্তিক সিট বণ্টন সম্পন্ন হয়।
অবশেষে ১৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রাবাস উদ্বোধন করা হয়।
কিন্তু এতসব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পরও বাস্তবে ছাত্ররা এখনো ওই আবাসনে প্রবেশাধিকার পাননি। অর্থাৎ, উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও কার্যকরভাবে ব্যবহার উপযোগী হয়নি আবাসনটি।
শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি
ছাত্রাবাস না চালু হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন নরসিংদীসহ দূর-দূরান্ত থেকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে তাদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। অন্যদিকে যারা রাজধানীতে থেকে পড়াশোনা করছেন, তাদের অধিকাংশকেই উচ্চভাড়া দিয়ে মেস বা ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে চাপের মুখে পড়ছেন তারা।
এক শিক্ষার্থী বলেন,
“আমাদের স্বপ্ন ছিল শহীদ সাগর ছাত্রাবাস চালুর মাধ্যমে পড়াশোনায় স্বস্তি ফিরে আসবে। কিন্তু উদ্বোধনের দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে কিছুই হলো না। এতে আমরা ভীষণ হতাশ।”
দ্রুত চালুর দাবি
শিক্ষার্থীরা বলছেন, অবিলম্বে ছাত্রাবাস চালু করা না হলে তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। তারা মনে করেন, ছাত্রাবাস চালু হলে—
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট দূর হবে
ক্লাস ও পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে
কলেজকেন্দ্রিক একটি প্রাণবন্ত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হবে
ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান
এই দাবিকে ঘিরে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের পাশাপাশি কলেজের সক্রিয় ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন। ছাত্রদল, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদসহ অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে আসতে বলা হয়েছে।
তাদের বক্তব্য,
“শহীদদের নামে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্রাবাস অব্যবহৃত পড়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য লজ্জাজনক। ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব।”
শিক্ষার্থীদের একান্ত প্রত্যাশা
বাঙলা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, কলেজ প্রশাসন দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং শহীদ সাগর ছাত্রাবাস অচিরেই চালু হবে। কারণ, ছাত্রাবাস শুধু একটি ভবন নয়—এটি শহীদদের নামে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের প্রতীক।