মোঃ মুবিনুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি:-দৈনিক৩৬জুলাই
খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা ও মানিকছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী তবলাপাড়া এলাকায় গত ৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সেনাবাহিনীর সিন্ধুকছড়ি জোন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি অভিযান পরিচালনা করে। সিভিল পোশাকে সেনাবাহিনীর ছয় সদস্য ওই এলাকায় অবস্থান নিলে, ইউপিডিএফ তাদের কৌশলে স্থানীয় গ্রামবাসী ও স্কুল শিক্ষার্থীদের উস্কানি দেয়। ইউপিডিএফ তাদের ভাষায় ‘ঠাঙাড়ে বাহিনী’ হিসেবে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরে এবং জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চেষ্টা করে।
এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর উপস্থিতি জানতে পেরে সিন্দুকছড়ি জোনের কমান্ডার ও গুইমারা থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্পষ্ট করেন। তবে ইউপিডিএফ, তাদের প্রচারণা অব্যাহত রেখে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে থাকে এবং সেনাবাহিনীর ওপর গুলি ছোড়ে। সেনাবাহিনী তখন আত্মরক্ষার্থে ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
এ ঘটনার পর ইউপিডিএফ মিথ্যা অভিযোগ ও ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে এবং খাগড়াছড়ি জুড়ে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধসহ জনভোগান্তি তৈরি করছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং জনগণ এসব কার্যকলাপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।
১৭ সেপ্টেম্বর বুধবার সিন্দুকছড়ি জোনের মাসিক মতবিনিময় সভায় তবলাপাড়ার ঘটনায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় সিন্দুকছড়ি জোনের কমান্ডার লেঃ কর্ণেল ইসমাইল শামস আজিজ, মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আফরোজ ভূইয়া, গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইরিন আকতার, গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী এবং মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা জানান, ইউপিডিএফ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচারের মাধ্যমে সাধারণ জনগণ এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রশাসনের বিরুদ্ধে উস্কানি দিচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং অস্থিরতা তৈরি করা।
এ সময় গুইমারা ও মানিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা বলেন, ইউপিডিএফের অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সকলকে এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
প্রশাসন ও সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব পালনে সতর্ক রয়েছে এবং ইউপিডিএফের অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। স্থানীয় জনগণকে সতর্ক থাকার এবং প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।