October 28, 2026, 10:33 pm
শিরোনাম :
মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললেই হামলার অভিযোগ—কালিকাপুরে মাদক সিন্ডিকেটের দাপট? আতঙ্কে তরুণ সমাজ, উঠছে নানা প্রশ্ন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে কুড়িগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সরকারি বাঙলা কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত কারো বক্তব্য প্রচার বন্ধ রাখা যায় না, সরাইলে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা! কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে হামলার ভিডিও ধারণ করার সাংবাদিকদের ডান হাতের কাঁধ ভেঙে দিল ছাত্রদলের দুর্বৃত্তরা হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ নাসিরনগরে কৃষি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, জনতার হাতে এক প্রতারক আটক ‎প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, ‎বাজারের অস্থিরতায় লাগাম টানতে চাই কার্যকর ‎পদক্ষেপ, পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে খুচরা দাম, নাসিরনগরে কাঁচামরিচের কেজি ছাড়ালো ৩০০ টাকা
নোটিশ :

নদীর বুকে ‘উন্নয়ন’, কিন্ত ধ্বংসের পথে নরসুন্দা

জোনায়েদ হোসেন জুয়েল

 

মোঃ জোনায়েদ হোসেন জুয়েল
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি দৈনিক ৩৬জুলাই

 

 

কিশোরগঞ্জ শহরের বুক চিরে বয়ে চলা নরসুন্দা নদী যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে একটি ভুল উন্নয়ন চিন্তার বলি হয়ে। সেতু নির্মাণের কথা বললেও বাস্তবে নদীর মাঝেই গড়ে তোলা হচ্ছে এক ধরনের স্থায়ী বাঁধ। আর এতে আশঙ্কাজনক হারে ব্যাহত হচ্ছে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ—বাড়ছে জলাবদ্ধতা, জমছে পচা পানি, ঝুঁকিতে পড়ছে পরিবেশ ও মানুষের জীবন।
কাগজে-কলমে সেতু, বাস্তবে পানি ঠেকানো বাঁধ,
২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হয় কিশোরগঞ্জ শহর বাইপাস সড়কের রঘুখালী অংশে একটি ৪০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের কাজ। প্রায় ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের অগ্রগতি এখনো মাত্র ৪০ শতাংশে। অথচ সময়সীমা প্রায় শেষের পথে।
স্থানীয়রা বলছেন—এটি আদৌ সেতু নয়। নদীর মাঝখানে মাটি, পাথর ও বালু ফেলে পানি আটকে ফেলা হয়েছে। পানির স্বাভাবিক গতি বন্ধ হয়ে নদী এখন স্থবির। আর দুই পাড়ে সৃষ্টি হয়েছে দুর্গন্ধযুক্ত পানির স্তুপ।
জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে
স্থানীয় কৃষক, জেলে ও খেয়া নৌকার মাঝিরা বলছেন—নদীর এ অবস্থা চলতে থাকলে নৌচলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে, জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষেত খামারে পানি জমবে, বাড়বে বন্যার আশঙ্কা। ফলে জনজীবন, কৃষি ও পরিবেশ এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে।

পরিবেশবাদীদের সরব প্রতিবাদ
নদী ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর অভিযোগ—এটি একটি “পরিকল্পনাহীন” ও “অদূরদর্শী” উন্নয়ন প্রকল্প। ‘রিভার বাংলা’ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বলেন:

“এই কাঠামো দেখে মনে হয়, এটি সেতু নয়—বরং নদী আটকে দেওয়ার এক আয়োজন। বর্ষায় এ সেতু হয়ে উঠবে বাধা, যা জনজীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে।”

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক সাইফুল ইসলাম জুয়েল জানান:
> “একদিকে সরকার যেখানে নদী খনন ও নান্দনিকীকরণে ১৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে, সেখানে অন্যদিক থেকে এলজিইডি নদী ধ্বংস করছে। এটি আত্মঘাতী উদ্যোগ। স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবো।”

প্রশাসনের দায় এড়ানো জবাব,
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এনায়েত কবীর বলেন:
> “এই প্রকল্প অনুমোদিত ডিজাইন অনুযায়ীই হচ্ছে। আমি সে সময় দায়িত্বে ছিলাম না। তবুও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি নকশাতেই নদীপ্রবাহের চিন্তা না থাকে, সেই অনুমোদনের দায় কে নেবে?
উন্নয়নের নামে প্রকৃতি নিধন?
পরিবেশবিদদের মতে, এ ধরনের প্রকল্প শুধু পরিবেশ নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলে। তারা বলছেন, উন্নয়ন হতে হবে বিজ্ঞানসম্মত, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব।
জনগণের দাবি: নদী থাকতে দাও বাঁচিয়ে৷
নরসুন্দা নদীর রক্ষা ও প্রাণ ফিরে পেতে এখন একটাই দাবি উঠছে—নদীর স্বাভাবিক গতিপথ অব্যাহত রেখে সেতু নির্মাণ করতে হবে। পানি ও নৌযান চলাচল নিশ্চিত করে পরিকল্পনা পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানাচ্ছেন স্থানীয়রা



আমাদের পেজ লাইক করুন