আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫ শিক্ষককে পাঠদান থেকে বিরত রাখার ফলেই এসএসসি-২০২৫ ফলাফল ভরাডুবি: দায় কার? বিভাগীয় তদন্ত দাবি সাবেক ছাত্রদের!!
মোঃজোনায়েদ হোসেন ,কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : দৈনিক৩৬জুলাই
কিশোরগঞ্জ, ২৬ আগস্ট ২০২৫:
আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঁচজন বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষককে পাঠদান থেকে অন্যায়ভাবে বিরত রাখার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে শিক্ষক, সাবেক ছাত্র ও অভিভাবক সমাজ। এরই ধারাবাহিকতায় এসএসসি ২০২৫ সালের পরীক্ষায় ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানের পাশের হার নেমে এসেছে মাত্র ৩৮ শতাংশে, যেখানে গত বছর (২০২৪) পাশের হার ছিল ৮২%।
ভুক্তভোগী শিক্ষকগণের দাবি, তারা ২০০৫ সাল থেকে নামমাত্র বেতনে পাঠদান করে আসছেন। ২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারি একটি নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে তৎকালীন স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধান শিক্ষক তাদের বিধি মোতাবেক নিয়োগ প্রদান করেন। কিন্তু চলতি বছর ১০ ফেব্রুয়ারি, প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার অপরাধে তাদের পাঠদান থেকে বিরত রাখা হয়, যা কোনো বৈধ প্রশাসনিক আদেশ ছাড়াই করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই সিদ্ধান্তটি একটি ষ্ট্যাফ মিটিং-এর কথিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয় যা আইনত বৈধ নয়, কারণ বর্তমানে স্কুলে কোনো নির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটি নেই।
ভুক্তভোগী শিক্ষকরা বলেন, “আমরা শিক্ষক হিসেবে শুধু পাঠদানের সুযোগই চাই। আমাদের মানসিকভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং কিছু সহকর্মীর আচরণও ছিল অমানবিক। একজন শিক্ষক হিসেবে আমাদের সম্মান পুনরুদ্ধার চাই।”
এই বিষয়ে একাধিকবার জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা অফিসকে অবহিত করা হলেও, কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। শুধু একটি সাধারণ নির্দেশনা জারি করে পাঠদানের অনুমতির কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু প্রধান শিক্ষক তা কার্যকর করেননি।
স্কুলের সাবেক ছাত্র মোঃ জোনায়েদ হোসেন, যিনি জেলা প্রশাসকের কাছে স্কুলের খারাপ ফলাফলের জন্য তদন্ত চেয়ে একটি লিখিত আবেদন দাখিল করেন, বলেন, “একসাথে ৫ জন
শিক্ষককে পাঠদান থেকে বিরত রাখা এবং শিক্ষক সংকটের কারণেই এমন ভয়াবহ ফলাফল হয়েছে।”
তার এই আবেদনের ভিত্তিতে ২৫ আগস্ট ২০২৫ কিশোরগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসের গবেষণা কর্মকর্তা এ.কে.এম. নাদিরুজ্জামান সরেজমিন তদন্তে আসেন। তিনি স্কুল ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষক সংকট, ক্লাসে শিক্ষকদের সঠিক সময়ে অনুপস্থিতি, প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও দুর্বল একাডেমিক তত্ত্বাবধানকে ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনের মূল কারণ হিসেবে অভিযোগকারী বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলেন৷
তিনি বলেন, “বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষককে পাঠদান থেকে বিরত রাখা হয়েছে বিধি লঙ্ঘন করে, যা অবশ্যই তদন্তসাপেক্ষ।”
স্থানীয় অভিভাবক ও সাবেক ছাত্ররা মনে করেন, এই বিপর্যয়জনক ফলাফলের প্রধান দায় নিতে হবে প্রধান শিক্ষক আবুবকর ছিদ্দিককে। কারণ, তিনি
দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে ৫ জন শিক্ষককে পাঠদান থেকে বিরত রাখায় এসএসসি পরীক্ষার পূর্ববর্তী ৫ মাসে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় পাঠদান হয়নি।
সাবেক ছাত্রদের বক্তব্য, “যদি দ্রুত ৫ শিক্ষককে পুনর্বহাল করে পাঠদান চালু না করা হয় এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আমরা মানববন্ধন ও আন্দোলনের মতো কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।”
শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি নয়, দাবি সকলের—“শিক্ষককে শিক্ষক হিসেবে তার মর্যাদায় রাখতে হবে। আর স্কুলের উন্নয়ন চাইলে, সঠিক ও বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দিয়ে নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে যেতে দিতে হবে।”