এম এ রইচ , মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি: দৈনিক৩৬জুলাই
একটি কাঁচা রাস্তার বেহাল দশার কারণে চরম দূর্ভোগ পোয়াতে হচ্ছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়িা ইউনিয়নসহ আশপাশের প্রায় ১০ গ্রামের হাজারো মানুষের। বালিদিয়া ইউনিয়নের বড়রিয়া গ্রামের রাশেদ সরদারের বাড়ী থেকে কলমধারী বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এই কাঁচা রাস্তার বেহাল অবস্থা। মাঝে মাঝে ইটের সলিং দেয়া থাকলেও তা দীর্ঘদিন হওয়ায় ভেঙেচুরে খানাখন্দে ভরেগেছে। আর তাই শুষ্ক মৌসুমে ধূলোময় হয়ে খানাখন্দে ভরা এবং বর্ষাকালে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। পায়ে হেঁটে যাওয়াই দূস্কর ওই রাস্তা দিয়ে। অথচ এই রাস্তাটি পাকাকরণ করা হলে এ অঞ্চলের হাজারো মানুষের চলাচলে সুবিধা হবে।
স্থানীয়রা জানান, শুষ্ক মৌসুমে ধূলোময় হয়ে খানাখন্দে ভরা এই রাস্তাটি চলাচলে যেমন দূর্ভোগ। তেমনই বর্ষাকালেও বৃষ্টির পানি জমে রাস্তাটি কাদা-পানিতে পরিনত হয়। ফলে যানবাহন চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়ে। এতে এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে এবং অসুস্থ্য রুগী উপজেলা বা জেলা সদরে নিতে বেকাদায় পড়তে হয়। ফলে তাদের ভোগান্তি ও ব্যয় দুটিই বাড়ে। এ অঞ্চলের প্রায় ১০ গ্রামের হাজারো মানুষের বছরের সব সময়ই দূর্ভোগ যেন পিছু ছাড়েনা।
অথচ এই রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করে বালিদিয়া ইউনিয়নের বড়রিয়া, নিখরহাটা, কলমধারী, বনগ্রাম, নাওভাঙ্গা ও বালিদিয়াসহ পার্শবর্তী মহম্মদপুর এবং রাজাপুর ইউনিয়নের কিছু অংশ মিলে প্রায় ১০ গ্রামের মানুষ। নানা কাজে তাদের উপজেলা সদরে আশার একমাত্র রাস্তা এটি। এছাড়াও পার্শবর্তী জেলা ও উপজেলার লোকজন এলাকার আত্মীয়-স্বজনের বাড়ী আসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে এই রাস্তাটি যাতায়াতে ব্যবহারে ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
সরেজমিনে গেলে এলাকার জনসাধারণ জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, গোরস্তান, ঈদগাহ ও এতিমখানাসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এলাকায়। কিন্তু শুকনো মৌসুমে ধূলাবালি ও খানা-খন্দ এবং বর্ষা মৌসুমে কাদা পানিতে পরিনত হয় এই রাস্তাটি। ফলে এলাকার মানুষের দূর্ভেগের শেষ থাকেনা। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চলাচলে এবং কৃষিকদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারজাত করতে চরম দূভোর্গ পোয়াতে হয়। ফলে রাস্তাটি পাকাকরণ হলে এলাকার মানুষ উপকৃত হবে।
বড়রিয়া গ্রামের কৃষক ফুল মিয়া শিকদার বলেন, এই কাচা রাস্তার কারণে আমাদের ফসল নিয়ে যাতায়াতে চরম দূভোর্গ পোয়াতে হয়। আমাদের ক্ষেতের ফসল বেচার জন্য হাটে-বাজারে নিতে পারি না। ভ্যান নছিমন আসতে চাই না। আবার আসলেও অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। মাঝে মাঝে মালামালসহ ভ্যান বা নছিমন উল্টে মালের ক্ষতি হয়। তাই এই কাচা রাস্তাটি পাকা হলে আমরা বাঁচতাম।
কলমধারী গ্রামের বাসিন্দা দলিল লেখক আব্দুর রশীদ শেখ বলেন, খানাখন্দে ভরা এই সড়কটি চলাচলে চরম দূর্ভোগ পোয়াতে হয় এলাকাবাসীর। আশপাশ থেকে কলমধারী বাজার বা উপজেলা সদরে যেতে প্রায় প্রতিদিন দূর্ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেল চালকেরা প্রায়ই দূর্ঘটনার শিকার হন। এছাড়াও কোনো ব্যক্তি অসুস্থ্য হলে তাদেরকে উপজেলা সদরে বা জেলা হাসপাতালে নিতে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।