July 29, 2026, 6:16 pm
শিরোনাম :
নাসিরনগরে কৃষি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, জনতার হাতে এক প্রতারক আটক ‎প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, ‎বাজারের অস্থিরতায় লাগাম টানতে চাই কার্যকর ‎পদক্ষেপ, পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে খুচরা দাম, নাসিরনগরে কাঁচামরিচের কেজি ছাড়ালো ৩০০ টাকা রাজশাহী প্রেসক্লাব সভাপতি সাইদুর রহমানের সুস্থতায় দোয়া মাহফিল সবুজ কুড়িগ্রাম গড়তে সবাইকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’: জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ ‎নাসিরনগরের ধরমন্ডলে জাল টাকার নোট সহ গ্রেপ্তার -১ নাসিরনগর উপজেলা যুব এসোসিয়েশন ঢাকার নতুন কমিটি গঠন, ‎ ‎নাসিরনগরে ১০৭ পিস ইয়াবা সহ এক নারী আটক ‎ স্বেচ্ছায় পদত্যাগের পর ‘জোরপূর্বক পদত্যাগের’ অভিযোগ! বরইউড়ি মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষকে ঘিরে নতুন বিতর্ক
নোটিশ :

বহু গুনের অধিকারী তালগাছ ও হারিয়ে যেতে বসেছে

এম এ রইচ

 

এম এ রইচ মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি : দৈনিক৩৬জুলাই

 

 

 

তাল গ্রামীণ একটি ফল। বাংলার গ্রামীণ প্রান্তরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে তালগাছ, যেন প্রাকৃতিক এক সেপাই। তাল গাছ সাধারণত ৩০-৬০ ফুট পর্য়ন্ত লম্বা হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে তালগাছ ১০০ ফুট পর্য়ন্ত লম্বা হতে পারে। তলগাছ ছায়া দেয়, বাতাসে দোলে আবার ঝড় এলেও দৃঢ় থাকে। তার পাতা যেন ঢাল, সূর্য ও বৃষ্টির আঘাত থেকে রক্ষা করে আশ্রয় করীকে। কিন্তু দিন দিন গাছকাটার প্রতিযোগিতায় তালগাছও হারিয়ে যেতে বসেছে।

তালগাছ এটি এশিয়া ও আফ্রিকার গ্রীষ্মকালীল গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম বোরাশাস ফ্লাবেলিফার। ইংরেজিতে এই গাছকে উড়ঁন ঢ়ষধস বলা হয়। এরা এরিকাসি পরিবারের বরাসুস গণের একটি সপুষ্পক উদ্ভিদ। এর আদি বাস মধ্য আফ্রিকায়। ভারতীয় উপমহাদেশে তালগাছ প্রায় সর্বত্র পাওয়া যায়।

 

এবার বলি তার গাছ থেকে কি কি উপকার পাওয়া যায়, তাল গাছের প্রায় সব অঙ্গ ব্যবহৃত হয় এবং উপকরণ তৈরি করা যায়। তাল পাতা শুধু ছায়া দেয়না, বাংলার সংস্কুতি ও জীবনে মহুমুখী কাজে ব্যবহুত হয়- ঘর ছাওয়া, হাতপাখা, তালপাতার চাটাই, মাদুর, আঁকার পট, লেখার পুঁথি, কুণ্ডলী, খেলনা। এমনকি হস্তশিপ্লেও তার অবদান। তালের কাণ্ড দিয়েও বাড়ি, নৌকা, হাউস বোট ইত্যাদি তৈরী হয়। এই প্রাকৃতিক সেপাই, তাল ও তার পাতা, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গ্রামীণ জীবনের নীরব রক্ষক, আমাদের ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তালের ফল এবং বীজ দুইই বাঙালির খাদ্য, তালের ফলের ঘন নির্যাস থেকে তাল ফুলুরি তৈরী হয়। কাঁচা ও পাকা দুই অবস্থাতেই তালের বীজ খাওয়া হয়। কচি তালের বীজের মধ্যে থাকে জলে ভরা তালশাঁস। আর পাকা তালের বীজ রেখে দিলে বীজ মধ্যস্থ শাঁস তালের আঁটিতে পরিণত হয় এবং বাঙালিদের সেটা সুস্বাদু খাদ্য। পাকা তালের নির্যাস থেকে পিঠা তৈরী হয়, যা সবার প্রিয়। তাল গাছের কাণ্ড থেকে রস সংগ্রহ করে গুড়, পাটালি, মিছরি তৈরি হয়, যা দিয়ে নানা রকম মুখোরচক খাবার বানানো হয়। তালে রয়েছে ভিটামিন এ, বি ও সি, জিংক, পটাশিয়াম, আয়রন ও ক্যালসিয়ামসহ আরো অনেক খনিজ উপাদান। এর সাথে আরো আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও এ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান।

 

তাল কিলিয়ে পাকানো যায় না। সাধারণ বর্ষা ঋতুতে তাল পাকে। পাকা তাল গাছ থেকে একটি একটি করে মাটিতে পড়ে। তাই ন্যাড়া কখনও তাল তলায় যায় না। কদাচিৎ গেলে মাথায় হাত রাখে। না হলে সংকেত না দিয়েই তাল টাকে পড়তে পারে। তার ফল তখন ভিন্ন মাত্রায় যাওয়া স্বাভাবিক। তাল ফলের নির্যাস থেকে তৈরি হয় পিঠা,পায়েস, বড়া আরও কত কি। শহুরে বা গ্রামীণ যে কারোর কাছেই তাল দিয়ে তৈরি খাবার দারুণ উপভোগ্য। চৈত্রের প্রচণ্ড খরতাপের সময় অনেকের কাছেই তালের রস উপাদেয়।

তালে তাল মিলিয়ে চলা, এটা আমাদের দৈনিন্দন জীবনে নিয়ম হয়ে গেছে- অফিসের বড় কর্তা, রাজনৈতিক নেতা, এলাকার বড় ভাই, সুদ, ঘুষ, দূর্নীতির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের সাথে তাল মিলান! এমনকি গ্রামের মাতব্বরের সঙ্গে তাল না মিলালে বিয়ে বাড়ির দাওয়াত ও পাওয়া যায় না। মাতব্বরের সঙ্গে সঠিকভাবে তাল মিলাতে পারলেই মেলে আকাঙ্খিত দাওয়াতের চিঠি। অনেকেই এজন্য বিপদ এড়াতে পথে, ঘাটে, বাড়িতে, অফিসে, সমাজে এমনকি মসজিদ, মন্দিরে পর্যন্ত তাল মিলিয়ে চলেন।

 

গ্রামীণ প্রবাদ আছে, ‘তাল পাতার সেপাই’। এর অর্থ হল অতিশয় দুর্বল বা শক্তিহীন। এটি দিয়ে মূলত এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, যিনি দেখতে শক্তিশালী বা সৈনিকের মতো হলেও আসলে খুবই দুর্বল বা ভীতু। আরেকটি প্রবাদ আছে ‘তাল পাকলে কাকের কি’। এটি মূলত এসেছে কোন কিছুর সাথে সম্পর্কহীনতার কারণে। কাক যেমন তালের শক্ত আবরণের জন্য তার কোন উপকারে লাগে না। মূলত কাক তাল খেতে পারে না। অনুরুপভাবে সবাই সব কাজে পারদর্শী নয়। যিনি যে কাজ করেন তাকে সেই কাজেই মানায়।



আমাদের পেজ লাইক করুন