জোনায়েদ হোসেন জুয়েল
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: দৈনিক৩৬জুলাই
কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ এবং কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য কমিয়ে একটি নিরাপদ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়।
মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখ করুন), কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন স্টেশন মাস্টার খলিলুর রহমান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাহাউদ্দিন। আরও উপস্থিত ছিলেন মুভি বাংলা মাল্টিমিডিয়া’র জেলা প্রতিনিধি মোঃ জোনায়েদ হোসেন, রেলস্টেশনসংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন দোকান মালিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশন ও আশপাশের এলাকায় মাদকদ্রব্য বেচাকেনা, কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা ও সাধারণ যাত্রীদের হয়রানির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এসব অপরাধ রোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয় — এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও নাগরিকদেরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা জরুরি।
স্টেশন মাস্টার খলিলুর রহমান বলেন,
> “রেলস্টেশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখতে হলে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। রেলওয়ে প্রশাসন তার দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকবে, তবে জনগণের সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব নয়।”
রেলওয়ে থানার ওসি বাহাউদ্দিন বলেন,
> “মাদকবিরোধী কার্যক্রমে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। কেউ মাদক বিক্রি বা সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল পুলিশের একার দায়িত্ব নয়, এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদেরও সচেতন থাকতে হবে।”
ব্যবসায়ীরা তাদের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, প্রতিদিন স্কুল-কলেজের অনেক শিক্ষার্থী ও তরুণ কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনে অযথা আড্ডা দেয়, যা এক পর্যায়ে অপরাধ প্রবণতা সৃষ্টি করতে পারে। তারা এসব অনাকাঙ্ক্ষিত আড্ডা বন্ধে নিয়মিত পুলিশ টহলের দাবি জানান।
এছাড়া স্টেশন চত্বরের দোকানগুলোতে রাতে চুরি বা ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে রেলওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে আরও জোরালো নজরদারির প্রস্তাব দেন ব্যবসায়ীরা।
অনুষ্ঠানে আরও প্রস্তাব আসে —
স্টেশনে নিরাপত্তা ক্যামেরা স্থাপন
রাতের বেলায় পর্যাপ্ত লাইটিং নিশ্চিত করা
অপ্রয়োজনে অবস্থানকারীদের পরিচয় যাচাই
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সমন্বয়
সবশেষে বক্তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, সকলে সম্মিলিতভাবে কাজ করলে কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনকে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, মাদকমুক্ত এবং যাত্রীবান্ধব পরিবেশে রূপান্তর করা সম্ভব।