মো: রাকিবুল হাসান
চট্টগ্রাম চান্দগাঁও প্রতিনিধি- দৈনিক৩৬জুলাই
শত বছরের পুরোনো চট্টগ্রাম রেলওয়ে ভবন (সিআরবি এর)। এটিকে ঘিরে আছে পুরোনো বহু বৃক্ষ। আছে সুশীতল ছায়া। সিআরবিকে বলা হয় চট্টগ্রামের ফুসফুস। নগর জীবনের ব্যস্ততাকে একটু ছুটি দিতে প্রতিদিন এখানে আসে হাজারো মানুষ। বন্দরনগরীর আরেক বিনোদন এলাকা কর্ণফুলী নদীর তীর। প্রতিদিন সেখানেও বসে মিলনমেলা। তবে ব্যস্ত এসব স্থানে বেড়াতে গিয়ে পলিথিন, চিপসের প্যাকেট, পানির বোতলসহ নানা ধরনের প্লাস্টিক দ্রব্য ফেলে লোকজন। শেষ পর্যন্ত এসব গিয়ে জমছে নদী-সাগরে। ভয়াবহ এমন দূষণ থেকে প্রকৃতিকে বাঁচাতে কাজ করে যাচ্ছেন উদ্যমী কিছু মানুষ।চরম ক্ষতিকর মাইক্রো প্লাস্টিক পাওয়া যাচ্ছে মানুষের রক্ত, ফুসফুস, এমনকি নবজাত শিশুর শরীরে। এ ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি করতে ব্যতিক্রমী এক কার্যক্রম চলছে চট্টগ্রামে। যেখানে আবর্জনা জমছে, সেখানে হাজির হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল। আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী এবং বিদেশিও। এরই মধ্যে নগরীর সিআরবি থেকে ৮০ বস্তা এবং নদী ও সাগরপার থেকে ৬৫ বস্তা প্লাস্টিক জাতীয় আবর্জনা তারা সংগ্রহ করেছেন। জনসচেতনতা বাড়াতে তারা কাজ করছেন প্রতি শুক্রবার। পরিবেশ অধিদপ্তর ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৪০০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়। বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৮৭ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য হয়। এর মাত্র ৩৬ শতাংশ সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক, যেমন– পানির বোতল, ব্যাগ, স্ট্র, খাবারের প্যাকেট, কোমল পানীয়র বোতল। এগুলো ব্যবহারের পরই যেখানে-সেখানে ফেলে দেওয়া হয়। এ জন্য প্রতিবছর সাগরে যাচ্ছে প্রায় এক কোটি টন প্লাস্টিক বৈর্জ্য। এসবের কারণে ৮০০টিরও বেশি সামুদ্রিক প্রজাতি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয় ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংগঠন এএসইজেড যৌথভাবে চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে সংগ্রহ করছে প্লাস্টিক জাতীয় আবর্জনা। এএসইজেড (সেভ দ্য আর্থ ফ্রম এ টু জেড) হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার ওয়ার্ল্ড মিশন সোসাইটি চার্চ অব গডের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। প্লাস্টিক জাতীয় আবর্জনা সংগ্রহের পাশাপাশি তারা বাড়াচ্ছে জনসচেতনতাও। বিশ্বের ১৭৫টি দেশে এএসইজেড এমন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক সোনিয়া সুলতানা বলেন, ‘মানুষের রক্ত, ফুসফুস এমনকি গর্ভজাত শিশুর শরীরে মাইক্রো প্লাস্টিকের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। জনসচেতনতা বাড়াতে যৌথভাবে প্রত্যেক শুক্রবার জনবহুল স্থান থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করছি আমরা। আয়োজন করা হচ্ছে সেমিনারও। গত ১ আগস্ট সিআরবি থেকে আমরা ৮০ বস্তা আবর্জনা সংগ্রহ করে সিটি করপোরেশনে দিয়েছি। গত শুক্রবার পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকা থেকে সংগ্রহ করেছি ৬৫ বস্তা আবর্জনা।’
পরিবেশ অধিদপ্তরের ৩৫ থেকে ৪০ জনের একটি দল আবর্জনা সংগ্রহের এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এটি সমন্বয় করছেন এএসইজেড বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সলমন কিম ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক সোনিয়া সুলতানা।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুক্তাদির হাসান বলেন, ‘বিশ্বে প্লাস্টিক দূষণ মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। নদীদূষণ, মাটিদূষণ তথা পরিবেশদূষণ হচ্ছে।