জোনায়েদ হোসেন জুয়েল
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি -দৈনিক৩৬জুলাই
বিএনপির সিনিয়র নেতা ও আইনজীবী এডভোকেট ফজলুর রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতৃবৃন্দ ও বিপ্লবী ছাত্রজনতা। তারা তার বক্তব্যকে “কুরুচিপূর্ণ, রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও শহীদদের প্রতি চরম অবমাননাকর” বলে উল্লেখ করেছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১৩ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরির দ্বিতীয় তলায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনেন এবং তাকে বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদ থেকে অব্যাহতির জোর দাবি জানান। তারা বলেন, জুলাই ২০২৪-এ সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান ও শহীদদের স্মৃতি যারা বহন করে চলেছেন, ফজলুর রহমান তাদের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগকে “হেয় ও প্রশ্নবিদ্ধ” করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির ভেতরে একটি “মুজিববাদী চক্র” সক্রিয় রয়েছে যারা আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভাষা প্রয়োগ করছে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে “মিথ্যা মামলা” দিয়ে হয়রানির পাঁয়তারা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইকরাম হোসেন, সদস্য সচিব মো. ফয়সাল প্রিন্স, যুগ্ম আহ্বায়ক রাতুল নাহিদ ভূঁইয়া, মুখপাত্র মানস সরকার উৎস, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ইয়াজ ইবনে জসিম, যুগ্ম সদস্য সচিব শামসুর রহমান, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক তামিম ইকবাল, সদস্য আরিফুল ইসলাম রাফি, মিয়াদ, ইটনা উপজেলার সদস্য সচিব দেলোয়ার নেওয়াজ, সরকারি মহিলা কলেজের সদস্য সচিব নুহা, সদস্য রওজা ও মাইসা প্রমুখ।
ভবিষ্যতে বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
বক্তারা জানান, কেবল ফজলুর রহমান নন, বিএনপির ভেতরে যারা আন্দোলনের চরিত্র বিকৃত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধেও জাতীয় পর্যায়ে বৃহৎ কর্মসূচি নেওয়া হবে। তারা জানান, “যারা শহীদের রক্ত নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, তাদের রাজনৈতিকভাবে জবাব দেওয়া হবে।”
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে— আন্দোলনের ইতিহাস কেউ বিকৃত করতে পারবে না, এবং শহীদদের অসম্মান করা হলে তার জবাব রাজপথেই দেওয়া হবে।