বিশ্ববিদ্যালয়ের দখলে কলেজ ভবন, পাঠদানে বিপর্যয়
ক্যাম্পাসহীন কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, চাপে গুরুদয়াল কলেজের হাজারো শিক্ষার্থী!!
জুনায়েদ হোসেন জুয়েল
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি-দৈনিক৩৬জুলাই
সরকারি অনুমোদন পেলেও এখনো নিজস্ব জমি ও ভবন নেই কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের। ফলে একাডেমিক কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে গুরুদয়াল সরকারি কলেজের ভবনে। আর এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।
প্রায় তিন বছর ধরে একই ভবনে দুটি প্রতিষ্ঠানের ক্লাস নেওয়ায় কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চাপা ক্ষোভ। পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ অভিভাবকদেরও।
কলেজের ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস!
২০২২ সালের ২৪ জুলাই থেকে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় শুরু করে একাডেমিক কার্যক্রম। তবে নির্ধারিত ক্যাম্পাস না থাকায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে কলেজের ১০ তলা ভবনের তৃতীয় থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হয় অস্থায়ীভাবে।
সমঝোতা অনুযায়ী ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ ভবনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের খালি করে দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো হয়নি। বরং ভবন ছাড়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নেই কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ।
এক ভবনে দুই প্রতিষ্ঠান: অসম লড়াই!!
গুরুদয়াল কলেজে রয়েছে ২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী, যারা এইচএসসি থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পড়ছেন ১৬টি বিভাগে। বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মাত্র ৩৪৬ জন শিক্ষার্থী থাকলেও ভবনের অধিকাংশ জায়গা তাদের দখলে।
ফলে কলেজের ক্লাস নিতে হচ্ছে জায়গার অভাবে গাদাগাদি করে অথবা সময় ভাগ করে। বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন,
> “সকাল ৮টা থেকে ক্লাস শিডিউল, কিন্তু রুম ফাঁকা না থাকায় অনেক সময় দুপুরে এসে ক্লাস করতে হয়। শিক্ষকরা বিরক্ত, আমরাও হতাশ।”
পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তেও কাজ হয়নি৷
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের ১২৫তম সভায় সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয়—বিশ্ববিদ্যালয় ভবন ছেড়ে দিক। বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে। কিন্তু এখনো মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। ফলে সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি।
কলেজ অধ্যক্ষের ক্ষোভ
কলেজের অধ্যক্ষ আনম মুশতাকুর রহমান বলেন—
> “বিশ্ববিদ্যালয়কে শুরুতে মানবিক কারণে জায়গা দিয়েছিলাম। কিন্তু এটা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নয়। তারা বলেছিল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাসে চলে যাবে, কিন্তু এখনো তেমন কিছুই হয়নি।”
দ্বিমুখী দাবিতে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি
এ অবস্থায় দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই রাস্তায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছে।
অপরদিকে কলেজের শিক্ষার্থীরা ভবন ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ-মিছিল করেছে একাধিকবার।
এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন,
“আমরা তো আগে থেকে এখানে পড়ি। অথচ আজ আমাদেরই ক্লাস করার জায়গা নেই!”
বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো কবে হবে?
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবন কবে হবে—তা কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না। প্রশাসনিক প্রস্তাব পাঠানো হলেও জমি অধিগ্রহণ বা নির্মাণকাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ফলে ভবিষ্যতও অনিশ্চিত।
কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে গঠিত হলেও, নিজস্ব অবকাঠামো না থাকায় এখন তা পরিণত হয়েছে গুরুদয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগে।
এখন প্রশ্ন—একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার আরেক পুরোনো প্রতিষ্ঠানের ঘাড়ে চাপিয়ে রেখে সরকার কত দিন এই সংকট চালিয়ে যাবে?
www.daynik36july.com