মোঃ মাহবুবুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি,-দৈনিক৩৬জুলাই
সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই প্রস্তাবনায় বন্দর থানা এলাকাকে ভাগ করে নারায়ণগঞ্জ-৩ এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মধ্যে বিভক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন বন্দর উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ।
এই প্রেক্ষাপটে শনিবার আমরা বন্দরবাসী নামক একটি সামাজিক সংগঠন এক প্রতিবাদস্বরূপ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং পূর্বের আসনবিন্যাস বহাল রাখার আহ্বান জানান।
বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৭টি ওয়ার্ড, যার মধ্যে রয়েছে বন্দর থানাধীন ৯টি ওয়ার্ড এবং বন্দর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও সদরের দুটি ইউনিয়ন। প্রস্তাবিত পুনর্বিন্যাসে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনকে কেবল সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠনের কথা বলা হয়েছে। অপরদিকে, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে যুক্ত করা হয়েছে বন্দর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন, যা বর্তমানে শুধু সোনারগাঁ উপজেলা নিয়ে গঠিত।
সংগঠনের সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার সাঈদ বলেন, আমরা বন্দরবাসী নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যের অংশ। আমাদের হঠাৎ করে সোনারগাঁয়ের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। আমরা পূর্বের অবস্থানে ফিরে যেতে চাই।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, এটি শুধু একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, এটি বন্দরবাসীর স্বার্থের পরিপন্থী। আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে এই প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক।
সংগঠনের নারী নেত্রী সামসুন্নাহার ময়না বলেন, প্রয়োজনে আমরা রাজপথে নামব। মহাসড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচিও নিতে হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, বন্দরবাসী দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ শহরের সঙ্গে প্রশাসনিক, সামাজিক ও সাংগঠনিকভাবে যুক্ত। হঠাৎ করে তাদের সোনারগাঁয়ের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা বিচার সালিশ, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং নাগরিক সেবা প্রাপ্তিতে বড় বাধা সৃষ্টি করবে।
বক্তারা স্পষ্টভাবে জানান, বন্দরকে হয় একটি পৃথক সংসদীয় আসন ঘোষণা করতে হবে, নতুবা পূর্বের মতো নারায়ণগঞ্জ-৫ এর আওতায় রাখতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
www.daynik36july.com