প্রতিবেদক: মো. মামুন হাওলাদার শিমুল ইন্দু রকানী, পিরোজপুর প্রতিনিধি
অবস্থান: আটঘর-কুড়িয়ানা, নেছারাবাদ, পিরোজপুর
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার অন্যতম প্রাকৃতিক আকর্ষণ আটঘর-কুড়িয়ানার ভাসমান পেয়ারা বাগান এখন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে স্বর্গতুল্য এক পর্যটন গন্তব্য। কিন্তু পর্যটকদের ভিড় ও অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরায় এই জীববৈচিত্র্যপূর্ণ এলাকায় পরিবেশ বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় উপজেলা প্রশাসন পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে।
সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নেছারাবাদ উপজেলার ইউএনও মো. জাহিদুল ইসলাম।
রবিবার তাঁর স্বাক্ষরিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনাগুলো প্রকাশ করা হয়।
ছয় নির্দেশনায় কী আছে?
১. সাউন্ড সিস্টেম ও মাইকের নিষেধাজ্ঞা:
পেয়ারা বাগানে কোনো ধরনের সাউন্ড সিস্টেম, মাইক বা উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে এমন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাবে না। এতে পরিবেশ দূষিত হয় ও বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়।
2. শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান:
সব বয়সী নারী-পুরুষ পর্যটকের উপস্থিতি বিবেচনায় অশালীনতা পরিহার করে শালীন আচরণ বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।
3. বড় ট্রলার ও উচ্চ শব্দযুক্ত ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিষিদ্ধ:
বড় আকারের ট্রলার বা উচ্চ শব্দের নৌকা চলাচল সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। কারণ, তা পানিপথে শব্দ ও কম্পন সৃষ্টি করে পরিবেশের ক্ষতি করে।
4. ছোট ও মাঝারি আকারের নৌকা ব্যবহারের পরামর্শ:
প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় ছোট বা মাঝারি আকারের নৌকা ব্যবহারের জন্য পর্যটকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
5. বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ:
খাবারের উচ্ছিষ্ট, পলিথিন, প্লাস্টিক বা যেকোনো বর্জ্য পানিতে ফেলা যাবে না। পরিবেশদূষণ রোধে এটি একটি কঠোর নিয়ম।
6. আইনি ব্যবস্থা:
নির্দেশনা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউএনও বললেন কী?
ইউএনও জাহিদুল ইসলাম বলেন,
> “পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনধারা বজায় রাখার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সকলের সম্মিলিত সচেতনতা ও সহযোগিতায় আটঘর-কুড়িয়ানার পেয়ারার রাজ্যকে আরও আকর্ষণীয় ও নিরাপদ রাখা সম্ভব।”
বর্ষাকালের রাজ্য
বর্ষা এলেই নদীঘেরা এই অঞ্চল রূপ নেয় এক মায়াবী ভাসমান বাজারে। হাজারো পর্যটক ছুটে আসেন পেয়ারা ও অন্যান্য ফলের রাজ্যে, যার তুলনা মেলে না দেশের আর কোনো প্রান্তে। প্রকৃতি, শান্তি, সৌন্দর্য আর গ্রামীণ জীবনের মিশেলে আটঘর-কুড়িয়ানা এখন দেশের গর্ব।
সম্পাদকীয় নোট:
এই নির্দেশনাগুলো শুধু নিয়ম নয়, বরং পরিবেশ-সচেতন ভবিষ্যতের সোপান। যারা প্রকৃতি দেখতে আসেন, তারা যেন প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখেন – এটাই প্রত্যাশা।
www.daynik36july.com