🖊 মনিরুল ইসলাম, প্রতিনিধি
লালমাই-সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা
১১ জুলাই ২০২৫, শুক্রবার
কুমিল্লা বোর্ডে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় একটি স্কুলে ৩২ জন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। বিদ্যালয়টির নাম—ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয়, অবস্থিত কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলাতে।
যেখানে দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয় ফলাফলে উৎকর্ষতা দেখাচ্ছে, সেখানে পুরো ক্লাস একযোগে ফেল—এই সংবাদে জেলা জুড়ে চরম সমালোচনার ঝড় বইছে।
স্থানীয় অভিভাবকরা বলছেন,
> “লেখাপড়ার চেয়ে রাজনীতি আর নেতামিই এখন মুখ্য হয়ে উঠেছে স্কুলে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সময় নেই শিক্ষক নেতার।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল্লাহ মজুমদার স্বপন শুধু এই বিদ্যালয়ের নয়, তিনি নাঙ্গলকোট উপজেলার প্রধান শিক্ষকদের সমিতির সাধারণ সম্পাদকও বটে। সেই দায়িত্ব পালন করেই নাকি তিনি ‘স্কুলকে ধ্বংস করে ছাড়ছেন’—এমন অভিযোগ তুলেছেন এলাকার সচেতন মহল।
স্থানীয়দের অভিযোগ:
শিক্ষকদের উপস্থিতি অনিয়মিত
প্রশিক্ষণ কিংবা একাডেমিক পরিকল্পনার ঘাটতি
শিক্ষার্থী মনিটরিং বা গাইডেন্স একেবারেই শূন্য
প্রধান শিক্ষক সবসময় “মিটিং-সেমিনারে” ব্যস্ত
এক অভিভাবকের ভাষ্যে:
> “আমার ছেলের পড়ালেখার দিকে কেউ খেয়ালই দেয়নি। অথচ প্রতিদিন ক্লাসে যায়, প্রাইভেটও পড়ে। এখন দেখি সবাই ফেল করছে। তাহলে স্কুল করেই বা কী লাভ?”
বোর্ড সূত্রে জানা যায়:
ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩২ জন শিক্ষার্থীর কেউই ন্যূনতম জিপিএ ১ পায়নি। বিষয়ভিত্তিক পাশের হারও শূন্য শতাংশ। বিদ্যালয়ের এই অবস্থান বোর্ডের নিম্নতর পাঁচটি স্কুলের একটি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের প্রতিক্রিয়া:
যোগাযোগ করা হলে প্রধান শিক্ষক স্বপন মজুমদার বলেন—
> “আমরা ফলাফল পর্যালোচনা করছি। কিছু সমস্যা হয়েছে ঠিকই, তবে আমরা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাব।”
তবে নিজের ব্যস্ততা, রাজনৈতিক ভূমিকা বা শিক্ষক নেতার দায়িত্বপালন সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি।
এক নজরে ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল (২০২৫):
পরীক্ষার্থী সংখ্যা: ৩২ জন
পাশ: ০ জন
জিপিএ-৫: নেই
গড় পাশের হার: ০%
গতবছর পাশের হার: 18.75%
বিশ্লেষণ: শিক্ষা, না নেতৃত্ব?
এই ঘটনায় বড় প্রশ্ন উঠেছে—একজন শিক্ষক যখন নেতৃত্বের মোহে শিক্ষকতাকে পেছনে ফেলে দেন, তার খেসারত দিতে হয় পুরো একটি প্রজন্মকে। কুমিল্লার শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক চিত্রে এ যেন এক ভয়ানক দৃষ্টান্ত।
“দৈনিক ৩৬ জুলাই” এর পক্ষ থেকে দাবি—শিক্ষায় রাজনীতি নয়, চাই দায়বদ্ধতা ও ছাত্র-ভবিষ্যতের প্রতি আন্তরিকতা।
আপনার মন্তব্য দিন, আপনি কী ভাবছেন?
www.daynik36july.com