🖊️ শওকতুল ইসলাম, চকরিয়া প্রতিনিধি
চকরিয়ার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিয়ান স্কুল ঘিরে গতকাল (বৃহস্পতিবার) ছিল উত্তেজনা, প্রতিবাদ ও অস্থিরতার দিন। একদফা দাবিতে ছাত্রছাত্রীদের সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলন গড়ায় শিক্ষক লাঞ্ছনা ও স্কুল বন্ধের ঘোষণায়।
সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, শতাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক প্রধান শিক্ষক জহিরুল হক এবং স্কুল কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এর পদত্যাগের দাবিতে সড়কে অবস্থান নেয়। তাদের অভিযোগ—দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, শিক্ষক হয়রানি এবং প্রশাসনিক দুর্নীতিতে জড়িত। বারবার অভিযোগ দিয়েও কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করেছে বলে দাবি তাদের।
এসময় স্কুল সংলগ্ন সড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। অনেক অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাও একাত্মতা প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে।
অপরদিকে, আন্দোলনের মধ্যে ইউনুস নামের এক শিক্ষককে প্রকাশ্যে লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক এ ঘটনাকে “পরিকল্পিত হামলা” হিসেবে আখ্যা দিয়ে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
স্থানীয়রা এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। চকরিয়ার বিশিষ্টজনরা বলেন, “শিক্ষক অন্যায় করলে তার জন্য আইন রয়েছে। জনসম্মুখে শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা বর্বরতা।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কিছুটা শান্ত হয় উত্তেজনা। তবে, শেষমেশ চকরিয়া ক্যামব্রিয়ান স্কুল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
স্থানীয় অভিভাবকরা মনে করেন, এ ধরনের অরাজকতার মাধ্যমে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
www daynik36july.com