🖋️ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
ঐতিহ্যবাহী আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর স্থানীয় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে হতাশার ছায়া। ১৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৫২ জন উত্তীর্ণ হওয়ায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৮.৮১ শতাংশ, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় রীতিমতো পতন।
এ ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য স্থানীয়রা বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন। নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, শিক্ষকদের অনুপস্থিতি এবং প্রধান শিক্ষকের অনিয়মিত উপস্থিতি—এসব অভিযোগ ঘুরেফিরে আসছে।
একজন অভিভাবক জানান,
“স্কুলে শিক্ষকরা ঠিকভাবে ক্লাস নেন না। প্রধান শিক্ষক স্কুল ও বাসা এক জায়গায় করায় বেশিরভাগ সময় বাসাতেই থাকেন। এমন হলে ফলাফল তো এমন হবেই।”
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে সুনামধন্য দুইজন সহকারী শিক্ষক—জোনায়েদ হোসেন জুয়েল ও মাহমুদুল ইসলাম মাসুদ—কে কোনো নিয়মনীতি ছাড়াই প্রধান শিক্ষক নিজ সিদ্ধান্তে অব্যাহতি দেন।
এ ঘটনায় ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে অনিয়মিত হয়ে পড়ে এবং কিছু পরিবার তাদের সন্তানদের অন্য স্কুলে নিয়ে যেতে বাধ্য হন।
দুই শিক্ষক কিশোরগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন, যেখানে দ্রুত তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়,
“অভিযোগ পেয়েছি, আমরা বিধি অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো।”
স্কুলের ফলাফল নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণ সরব হয়েছেন। অনেকেই সরাসরি বলছেন,
“যে প্রধান শিক্ষক একসময় দুর্নীতির অভিযোগে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন, তার অধীনে ভালো কিছু আশা করা যায় না।”
তারা আরও অভিযোগ করেন, কোনো প্রকার কারণ ছাড়া স্কুল থেকে মোট ৫ জন শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়ায় শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দ্রুত মাসুদ স্যার ও জুয়েল স্যারকে পুনর্বহাল করা এবং বর্তমান প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
উপসংহার:
একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন ভেঙে পড়া ফলাফল শুধুই পরিসংখ্যান নয়—এটি গভীরতর সংকেত। প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসনের গাফিলতি আর মনোপলি সিদ্ধান্তের কারণে কীভাবে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়ে পড়ছে? এর উত্তর খুঁজে বের করাই এখন সময়ের দাবি।
📞 তথ্যসূত্র: স্থানীয় প্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সরাসরি সাক্ষাৎকার
প্রতিবেদন প্রস্তুত: [www.daynik36july.com]