সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে বছরের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, শেষমেশ তা গড়েছে সরকার উৎখাতের ইতিহাস।
৩৬ দিনের সেই আন্দোলনে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালাতে বাধ্য হন সাড়ে ১৫ বছর দোর্দণ্ড প্রতাপে দেশ চালিয়ে আসা শেখ হাসিনা।
শুরুতে এই আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পরে তা দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
এর মধ্যে তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কোটার বিষয়টি সমাধান হবে আদালতে।
এক প্রশ্নে তিনি বলেছিলেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি পুতিরা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতি পুতিরা (চাকরি) পাবে?”
সেই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তুমি কে আমি কে রাজাকার, রাজাকার’ স্লোগান উঠলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে উঠে।
আন্দোলন দমাতে আলোচনার কোন পথে না গিয়ে সরাসরি ‘গুলি’, ডিবি অফিসে ধরে এনে নির্যাতনের মতো পথগুলো বেছে নেয় তৎকালীন সরকার। একদিকে রক্ত ঝরতে থাকে রাজপথে, মৃত্যু আর আহতের ভিড় বাড়তে থাকে হাসপাতালগুলোতে। সেই সঙ্গে বড় হতে থাকে আন্দোলনের জমায়েতও।
সরকারের তরফে জবাব ছিল- গুলি, টিয়ারশেল আর লাঠি; এককথায় কেবলই বলপ্রয়োগ। প্রথমে ফেইসবুক, পরে ইন্টারনেট বন্ধ করে পরিস্থিতি সামাল দিতে চায় সরকার। তাতে হিতে বিপরীত হয়।
আন্দোলনে রক্তপাত শুরু হওয়ার ২০ দিনের মধ্যেই লাশ আর রক্তের বোঝা মাথায় নিয়ে পতন হয় দেড় দশকের আওয়ামী লীগ সরকারের। পালাতে বাধ্য হন শেখ হাসিনা আর তার অমাত্যরা।
শেখ হাসিনার পতনের দিন ৫ অগাস্ট দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু গণভবনের পাশাপাশি সারাদেশের থানা, বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। তিন দিন সরকারবিহীন ছিল বাংলাদেশ। ৮ অগাস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
এর পরবর্তী মাসখানেক ছিল নানা বিশৃঙ্খলায় ভরা। রাতভর ডাকাত আতঙ্ক, পাড়ায়-মহল্লায় বাসিন্দাদের পাহারা, নানা পক্ষের দাবি-দাওয়া আদায়ের আন্দোলন-বিক্ষোভের চাপে একরকম অচল হয়ে পড়ে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড।
গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেলের খসড়া তালিকা অনুযায়ী, আন্দোলনে ৮৫৮ জন নিহত এবং সাড়ে ১১ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
