বাঙলা কলেজ প্রতিনিধি :নাজমুল ইসলাম ছাকিব
ঢাকা:১৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৫;দৈনিক ৩৬ জুলাই
রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজের মধ্যে সরকারি বাঙলা কলেজ দীর্ঘদিন ধরেই নানা বৈষম্য ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে আলোচনায় রয়েছে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও এখানে ভর্তি ফি থেকে শুরু করে পরিবহন, ক্লাস, খাবার, এমনকি মৌলিক স্বাস্থ্যসুবিধা— সব ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে কলেজের হাজারো শিক্ষার্থীর মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
ভর্তি ফিতে বৈষম্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সব সরকারি কলেজে সমান ফি নেওয়ার নিয়ম থাকলেও বাঙলা কলেজে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ইডেন মহিলা কলেজে ২য় বর্ষে ভর্তি ফি সর্বোচ্চ ৩,৪৮৫ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হলেও বাঙলা কলেজে একই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪,২৮৫ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন— যখন নিয়ম এক, তখন এই বৈষম্য কেন?
পরিবহন সংকট
অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি বছর পরিবহন বাবদ নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিতে হয়। কিন্তু বাস্তবে কলেজে শিক্ষার্থীদের তুলনায় বাসের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। ফলে অনেক শিক্ষার্থী চাহিদা অনুযায়ী পরিবহন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ— এমন একটি সেবার জন্য অর্থ দিতে হচ্ছে, যা তারা ঠিকমতো পাচ্ছেন না।
মৌলিক সুবিধার ঘাটতি
বাঙলা কলেজে দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্টিন না থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবারের জন্য বাইরের ওপর নির্ভর করতে হয়। অথচ বাইরের খাবারের দাম তুলনামূলক বেশি, যা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়ায়।
এছাড়া প্রতিটি বিভাগে পর্যাপ্ত ক্লাস না হওয়া শিক্ষার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নাজুক টয়লেট বা ওয়াশরুম ব্যবস্থার ভোগান্তি। শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন এ অবস্থার কারণে তাদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন ও দাবি
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, কম সুবিধা পাওয়ার পরও বেশি ফি দিতে হচ্ছে সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন— যখন অন্যান্য কলেজে কম খরচে তুলনামূলক ভালো সুবিধা পাওয়া যায়, তখন কেন তাদের বেশি ফি দিতে হবে?
শিক্ষার্থীরা দাবি জানিয়েছেন, এ বৈষম্য ও অনিয়মের দ্রুত সঠিক ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও কলেজ প্রশাসনের প্রতি তাদের আহ্বান— যেন সমান সুযোগ-সুবিধা ও ন্যায্য ফি কাঠামো নিশ্চিত করা হয়।