স্টাফ রিপোর্টার ঢাকা । দৈনিক৩৬জুলাই
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গতকাল শুক্রবার (২৯ আগস্ট) গণ অধিকার পরিষদ ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন এবং চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শনিবার সকালে (৩০ আগস্ট) তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে জানানো হয়—নুরের কিছুটা হুঁশ ফিরেছে। প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, নাক ব্যান্ডেজে মোড়া, মুখে অক্সিজেন মাস্ক, চারপাশে যন্ত্রপাতি ঘেরা এক নিঃশব্দ লড়াই চালাচ্ছেন তিনি।
সংঘর্ষের মুহূর্তের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, নুরের মুখ থেকে বুক পর্যন্ত রক্তে ভিজে গেছে; স্ট্রেচারে শুয়ে সহকর্মীরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন।
গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন—
“ডাক্তাররা জানিয়েছেন, নুরের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। বাঁচবেন কি না বলা যাচ্ছে না।”
ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন নিন্দা জানিয়ে বলছে—
“এই হামলা কেবল নুরের ওপর নয়, পুরো গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর আঘাত।”
অন্যদিকে বিএনপি, তারেক রহমান ও একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি তুলেছে। অনেকেই জাপাকে দায়ী করে সংগঠনটি নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিবাদের প্রশ্ন এখন স্পষ্ট:
এক ছাত্রনেতা, যিনি বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে উঠেছিলেন—তার কি নিরাপত্তার কোনো অধিকার নেই?
কাকরাইলের রক্তাক্ত রাত কি গণতন্ত্রকেই অপমানিত করেনি?
শেষকথা:
নুরের জীবন এখন আইসিইউর যন্ত্রের সঙ্গে বাঁধা। তিনি বাঁচুন বা না বাঁচুন—এই হামলার দায় এড়াতে পারবে না ক্ষমতাসীন শক্তি ও সংশ্লিষ্ট বাহিনী। জনগণের দাবিই একটাই— “হামলার ন্যায়বিচার হোক, নইলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না