November 1, 2026, 9:20 pm
শিরোনাম :
মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললেই হামলার অভিযোগ—কালিকাপুরে মাদক সিন্ডিকেটের দাপট? আতঙ্কে তরুণ সমাজ, উঠছে নানা প্রশ্ন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে কুড়িগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সরকারি বাঙলা কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত কারো বক্তব্য প্রচার বন্ধ রাখা যায় না, সরাইলে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা! কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে হামলার ভিডিও ধারণ করার সাংবাদিকদের ডান হাতের কাঁধ ভেঙে দিল ছাত্রদলের দুর্বৃত্তরা হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ নাসিরনগরে কৃষি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, জনতার হাতে এক প্রতারক আটক ‎প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, ‎বাজারের অস্থিরতায় লাগাম টানতে চাই কার্যকর ‎পদক্ষেপ, পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে খুচরা দাম, নাসিরনগরে কাঁচামরিচের কেজি ছাড়ালো ৩০০ টাকা
নোটিশ :

অস্বাস্থ্যকর খাবার বেকারীর নিউজ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের ওপর হুমকি,

জোনায়েদ হোসেন জুয়েল

জোনায়েদ হোসেন জুয়েল

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি দৈনিক৩৬জুলাই

 

 

 

 

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের মনোকর্শা গ্রামে ‘বিসমিল্লাহ ফুড অ্যান্ড বেকারী’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কোনো অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা তাবারক হোসেনের মালিকানাধীন এই বেকারী জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা স্থানীয় জনজীবনে ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
স্থানীয়রা জানান, বেকারীটি থেকে উৎপাদিত পণ্য স্বাস্থ্যসম্মত না হওয়ায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণরা এ থেকে প্রভাবিত হচ্ছেন। এছাড়া, বেকারীর অবৈধ কার্যক্রমের ফলে পরিবেশ দূষণ ও কোর্তা ঝুঁকিও বাড়ছে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিনের চুপচাপের পর সম্প্রতি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল এই বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে।
প্রতিবেদনগুলোতে বেকারীর কার্যক্রমের অবৈধতা ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয় তুলে ধরা হয়। কিন্তু প্রতিবেদন প্রকাশের পর বেকারীর মালিক তাবারক হোসেন সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিতে শুরু করেন। প্রথমে তিনি সাংবাদিকদের অর্থের প্রলোভন দেখানোর চেষ্টা করেন, যা প্রত্যাখ্যাত হলে শুরু হয় অপপ্রচার এবং হুমকি।
সাংবাদিকদের সূত্রে জানা গেছে, তাবারক হোসেন তাদের একটি সময়সীমা বেঁধে দেন যাতে তারা প্রকাশিত সংবাদ মুছে ফেলতে বাধ্য হন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, যদি এই নির্দেশ না মানা হয়, তাহলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি, তিনি প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি তারা বেকারীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়, তবে তার দায় সাংবাদিকদের উপর চাপানো হবে।
এই ঘটনায় কিশোরগঞ্জের সাংবাদিক সমাজ উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হুমকি-ধমকি শুধু ব্যক্তিগত হামলা নয়, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, হুমকিদাতার বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তৎপর হতে হবে।
অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তারা এ বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি। তবে পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ ছাড়া বিষয়টি সংকটের রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সরকারি অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত এই বেকারীর কারণে তারা দৈনন্দিন জীবনে নানা সমস্যায় পড়ছেন। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিলে তাদের স্বাস্থ্যের ওপর সঙ্কট কাটানো সম্ভব হবে।
সাংবাদিকরা অনুরোধ জানিয়েছেন, দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে জনগণকে রক্ষার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি, হুমকিদাতারা যেন আইনের আওতায় আসে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমানে মনোকর্শা গ্রামের এই অবৈধ বেকারীর সমস্যা কেবল স্থানীয় নয়, বরং গোটা কিশোরগঞ্জ জেলায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। জনগণের স্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



আমাদের পেজ লাইক করুন