ঘিওরে ট্রেনিং সেন্টারের মালিককে মারধর: স্থানীয় চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল নৃশংসতা
🗓️ প্রকাশিত: ২৪ জুন ২০২৫ | জেলা প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে ঘটেছে এক ভয়াবহ ও লজ্জাজনক ঘটনা। স্থানীয় একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মালিককে প্রকাশ্যে হামলা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে একটি চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্র। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
🧑🏫 হামলার শিকার:
আলী আজম মানিক, ঘিওর বাজারে অবস্থিত “মানিক কম্পিউটার অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার”-এর প্রতিষ্ঠাতা ও মালিক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঘিওরে আইটি শিক্ষা ও সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করে আসছেন।
⚠️ ঘটনা সংক্ষেপ:
ভুক্তভোগী মানিক জানান, অভিযুক্ত নাসিম ভূঁইয়া ও তার সহযোগীরা তার প্রতিষ্ঠানে এসে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করাতে চাপ সৃষ্টি করে। তিনি এই প্রস্তাবে রাজি না হলে তারা ক্ষিপ্ত হয় এবং
২৩ জুন ২০২৫, রাত আনুমানিক ৯:০০ ঘটিকায়,
সরাসরি দোকানে ঢুকে
তার দাঁড়ি ধরে টানাটানি, গালাগালি ও শারীরিক নির্যাতন চালায়।
সিসিটিভি প্রমাণ:
উক্ত ঘটনার সময় দোকানের ভিতরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো হামলার দৃশ্য ধরা পড়ে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কীভাবে নাসিম ভূঁইয়া ও তার দলবল দোকানে প্রবেশ করে এবং মানিককে হেনস্তা করে।
🧾 স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া:
এলাকার একাধিক সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত নাসিম ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ক্ষমতার অপব্যবহারে জড়িত। তবে এই প্রথমবার এত স্পষ্ট প্রমাণ সামনে এসেছে।
👮 প্রশাসনের ভূমিকা:
এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সরকারি বিবৃতি বা আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।
ভুক্তভোগী মানিক থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
দাবি উঠছে:
দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনা
ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
ঘিওরে অবৈধ চাঁদাবাজির রুট ধ্বংস করা
সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
🗣️ ভুক্তভোগীর বক্তব্য:
> “আমি শুধু একজন সাধারণ শিক্ষক, ঘিওরের তরুণদের কম্পিউটার শিখিয়ে এগিয়ে নিতে চাই। কিন্তু এই চাঁদাবাজরা আমার দোকান দখল করতে চায়, বিনা টাকায় কাজ করাতে চায়। টাকা চাওয়ায় এখন আমাকে মেরে ফেলতে চায়। প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ—এই অন্যায়ের বিচার চাই।” —আলী আজম মানিক
—
আমাদের মতামত:
ঘিওরের এই ঘটনা যেন কোনোভাবেই ‘নতুন স্বাভাবিক’ না হয়ে ওঠে। সমাজ ও প্রশাসনের সক্রিয় অংশগ্রহণেই এই ধরনের অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব। “জালিমের বিচার না হলে, ন্যায়বিচার কেবল গল্পই থেকে যাবে।”
রিপোর্ট: নাগরিক চোখ – ঢাকা জেলা (অভ্যন্তরীণ বিশেষ প্রতিনিধি)
📨 আরও তথ্য/আপডেট পেতে যোগাযোগ করুন: maksudurrahman291@gmail.com