October 28, 2026, 11:27 am
শিরোনাম :
মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললেই হামলার অভিযোগ—কালিকাপুরে মাদক সিন্ডিকেটের দাপট? আতঙ্কে তরুণ সমাজ, উঠছে নানা প্রশ্ন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে কুড়িগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সরকারি বাঙলা কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত কারো বক্তব্য প্রচার বন্ধ রাখা যায় না, সরাইলে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা! কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে হামলার ভিডিও ধারণ করার সাংবাদিকদের ডান হাতের কাঁধ ভেঙে দিল ছাত্রদলের দুর্বৃত্তরা হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ নাসিরনগরে কৃষি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, জনতার হাতে এক প্রতারক আটক ‎প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, ‎বাজারের অস্থিরতায় লাগাম টানতে চাই কার্যকর ‎পদক্ষেপ, পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে খুচরা দাম, নাসিরনগরে কাঁচামরিচের কেজি ছাড়ালো ৩০০ টাকা
নোটিশ :

বরগুনায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড”

কাশেম হাওলাদার

 

কাশেম হাওলাদার
বরগুনা প্রতিনিধি: দৈনিক৩৬জুলাই

 

 

 

যৌতুক দিতে না পারায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেলে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ লায়লাতুল ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হলেন বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার জাকিরতবক গ্রামের ছামেদ মীরার ছেলে মো. ছলেমান (৪১)। রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক ছিলেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার পাবলিক প্রসিকিউটর রনজুয়ারা সিপু।

জানা যায়, বরগুনা সদর উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের চরমাইঠা গ্রামের মৃত সিরাজুল হকের স্ত্রী পিয়ারা বেগম বাদী হয়ে ২০০৯ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে বরগুনা থানায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. ছলেমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।

বাদীর মেয়ে লাকিকে ২০০৭ সালে ছলেমানের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই ছলেমান এক লাখ টাকা যৌতুকের দাবি করে লাকিকে নানাভাবে নির্যাতন করতে থাকে। এ বিষয়ে লাকি তার মাকে জানায়।

২০০৯ সালের ১৪ জানুয়ারি লাকি ও তার স্বামী ছলেমান বাদীর বাড়িতে আসে। ১৮ জানুয়ারির সকালেও ছলেমান পুনরায় লাকির কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। যৌতুক দিতে অপারগতা জানালে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ছলেমান লাকিকে চড়-থাপ্পড় দেয়। এরপর সারাদিন তারা একে অপরের সঙ্গে কথা বলেনি।

সেদিন সন্ধ্যা অনুমানিক ৬টার দিকে ছলেমান তার স্ত্রী লাকিকে নিয়ে বাদীর ঘর থেকে বাইরে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর ছলেমান একা ঘরে ফিরে আসে। তখন পিয়ারা বেগম তার মেয়ের খোঁজ করলে ছলেমান কিছুই বলেনি।

পরে লাকির মা প্রতিবেশী ফজলুর রহমানকে নিয়ে খোঁজে বের হন। রাত পৌনে ৭টার দিকে প্রতিবেশী খলিলের বাড়ির দক্ষিণ পাশে খড়কুটোর মধ্যে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় লাকির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

বাদী পিয়ারা বেগম বলেন, “আমার স্বামী নেই। আমি এবং আমার মেয়ে লাকি ছলেমানকে যৌতুক দিতে না পারায়, সে ঠান্ডা মাথায় আমার মেয়েকে তার পড়নের কাপড় দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করেছে। আমি লোকজন ডেকে ছলেমানকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিই। সে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিল, পরে জামিনে গিয়ে পলাতক হয়। এই রায়ে আমি সন্তুষ্ট। তবে আরও বেশি খুশি হবো যেদিন শুনবো, ছলেমানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।”

পাবলিক প্রসিকিউটর রনজুয়ারা সিপু বলেন, “ছলেমান ঠান্ডা মাথায় লাকিকে হত্যা করেছে। এটি একটি যুগান্তকারী রায়। এই বার্তাটি যদি সমাজে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে যৌতুকের জন্য নারীদের ওপর নির্যাতন কমে আসবে।”

www.daynik36july.com



আমাদের পেজ লাইক করুন