মোঃজোনায়েদ হোসেন
কিশোরগঞ্জ (ইটনা) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে রিক্সন ভূঁইয়া (৩০) নামের এক শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী যুবকের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার রাতে পুতারবাড়ি এলাকায় সংঘটিত এই হামলায় ধারালো অস্ত্র ও রড দিয়ে রিক্সনকে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়। তিনি বর্তমানে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে শয্যাশায়ী রিক্সনের মা আজিরুম বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ছেলেটার একটা হাতই নাই। ছোটবেলায় ধান মাড়াইয়ের সময় দুর্ঘটনায় হাতটা হারায়। সেই ছেলেটাকে এভাবে কুপিয়েছে! কেমন মানুষ এরা?”
ভুক্তভোগী রিক্সন বলেন, মাসখানেক আগে ছোট ভাই বাঁধনের সঙ্গে ফুটবল খেলা নিয়ে গ্রামের কয়েকজন যুবকের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়। তাদের সঙ্গেই তাঁরও কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। সেই থেকেই তাঁদের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল তারা। ঘটনার দিন রাতে বরশিকুড়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে পুতারবাড়ি এলাকায় ওঁৎ পেতে থাকা হামলাকারীরা তাঁকে ঘিরে ফেলে। রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রিক্সনের বাবা হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া ইটনা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন—রামিম হাসান মানার, মাহমুদুল হাসান রনি, ইমন মিয়া, হামিদুল মিয়া, মুর্শিদ ভূঁইয়া, মহসিন ভূঁইয়া, আব্দুল হামিদ ভূঁইয়া, জাহাঙ্গীর ভূঁইয়াসহ আরও সাত-আটজন অজ্ঞাত ব্যক্তি।
মামলার আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয়ও উঠে এসেছে। অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান রনি বাদলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি এবং তাঁর বাবা আব্দুল হামিদ ভূঁইয়া ইউনিয়ন বিএনপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে মামলার আরেক আসামি মুর্শিদ ভূঁইয়ার ছেলে তানজির সিদ্দিকী রিয়াদ ইটনা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব।
তবে রিয়াদ দাবি করেন, “আমার বাবা বৃদ্ধ। তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই তাঁর নাম মামলায় ঢুকানো হয়েছে।”
ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর ইকবাল জানান, “মামলার তদন্ত চলছে। আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।”
www.daynik36july.com