কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি -দৈনিক৩৬জুলাই
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ে চাঞ্চল্যকর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগার) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান টানা চার বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন, অথচ তার বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা। এই ঘটনায় বিদ্যালয়জুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে।
দীর্ঘ অনুপস্থিতি, অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি!
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত শিক্ষক কামরুজ্জামান বিদ্যালয়ে হাজির না থেকেও অন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। বিষয়টি জানা সত্ত্বেও, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এতদিন নীরব থাকায় প্রশ্ন উঠেছে—কার স্বার্থে এই নিরবতা?
বিদ্যালয়ের অপর এক শিক্ষক মোঃ জোনায়েদ হোসেন জুয়েল লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন, “তিনি কোনো সরকারি অনুমতি বা ছাড়পত্র ছাড়াই দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিলেন। এতে শিক্ষার্থীদের গ্রন্থাগার ব্যবহারে সীমাহীন ক্ষতি হয়েছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।”
নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন
সরকারি চাকরি বিধিমালা ১৯৭৯-এর ধারা ১১ ও ১২ অনুযায়ী, কোনো কর্মচারী নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করলে তা চাকরি অবহেলা ও শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়। এত বড় অনিয়মের পরও প্রশাসনের নিরবতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।
অভিভাবকদের ক্ষোভ ও দাবির ঝড়
বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, “একজন শিক্ষক বছরের পর বছর অনুপস্থিত থেকে অন্যত্র চাকরি করছেন অথচ কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি—এটি অকল্পনীয়। এটি শুধু শিক্ষা ব্যবস্থার নয়, প্রশাসনিক জবাবদিহিতারও ব্যর্থতা।”
তারা দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য তথ্য:
অভিযুক্ত শিক্ষক: মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
পদবি: সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগার), আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়
অভিযোগ: ৪ বছর অনুপস্থিত, অন্যত্র চাকরি
সংশ্লিষ্ট ধারা: সরকারি চাকরি বিধিমালা ১৯৭৯ এর ধারা ১১ ও ১২
www.daynik36july.com