মোঃ তৌসিফ হোসাইন হারুন ফরাজি,
বিশেষ প্রতিনিধি দৈনিক ৩৬ জুলাই যাত্রাবাড়ী ঢাকা।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় মূল আসামি মোঃ আব্দুল্লাহ রাজুকে (৪১) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, যাত্রাবাড়ী থানার মামলা নং-০৪, তারিখ ০১ এপ্রিল ২০২৬, দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৩০২/৩৪ ধারায় এ মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নিহত তাসলিমা (৩৪) তার তৃতীয় স্বামী মোঃ রশিদ আহমেদ বাপ্পীর (৪০) সঙ্গে যাত্রাবাড়ী থানাধীন দক্ষিণ সায়েদাবাদের ৭৩/ডি নম্বর বাড়ির সপ্তম তলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তাদের সংসারে এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, তাসলিমার বান্ধবী ফারহানা শামসের মাধ্যমে আসামি আব্দুল্লাহ রাজুর সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সম্পর্কের সূত্রে উভয়ের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে অর্থ লেনদেনও হয়।
ঘটনার দিন ৩০ মার্চ ২০২৬ বিকেলে আসামি রাজু ভিকটিমের বাসায় যান। বিকেল আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিটে তাসলিমার স্বামী বাসা থেকে বের হয়ে গেলে, আসামি ‘জরুরি কথা’ বলার কথা বলে তাকে বাসার ছাদে নিয়ে যান। সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে তাসলিমার শাশুড়ি শাহিদা বেগম ছাদে গিয়ে তাকে গলায় শ্বাসনালী কাটা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় রক্তাক্ত পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনাস্থলে আসামিকে পাওয়া যায়নি, তবে তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন সেখানে পড়ে ছিল।
পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাসলিমাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলার তদন্তে আরও জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে তাসলিমা ব্যবসা ও অফিসের প্রয়োজনে রাজুর কাছে ৫০ লাখ টাকা নেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও টাকা ফেরত না দেওয়ায় তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
ঘটনার দিন টাকা ফেরত নিয়ে উভয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে আসামি রাজু ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাসলিমাকে একাধিকবার আঘাত করে পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। ঘটনাস্থল থেকে তার একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই (নিরস্ত্র) রাসেল সরদার জানান, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।