টাঙ্গাইলে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রাণঘাতী হামলা: আহত ৩, একজন বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী
প্রতিনিধি, বাঙলা কলেজ: মো: নাজমুল ইসলাম ছাকিব
টাঙ্গাইলের মধুপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত ভয়াবহ হামলায় একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত সরকারি বাঙলা কলেজের মাস্টার্স শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৫ জুন (বুধবার) সকাল ১১টার দিকে, মধুপুর উপজেলার মালাউড়ী গ্রামে। অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পিতভাবে স্থানীয় ফজলুল হক ও তার নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ হামলা চালায়।
ভুক্তভোগী জেসমিন সুলতানা জানান, তার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম আকন্দ এর মালিকানাধীন জমিতে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে হামলাকারীরা। তাদের উদ্দেশ্য ছিল হত্যা। ফজলুল হকের ছেলে সোলাইমান মিশু দা-এর উল্টো অংশ দিয়ে জাহাঙ্গীরের মাথায় আঘাত করলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকাতে গিয়ে কবজিতে গুরুতর রক্তাক্ত জখম পান। পরে ফজলুল হক নিজে কাঠের খণ্ড দিয়ে জাহাঙ্গীরের মাথা ও শরীরে একাধিকবার আঘাত করেন।
জাহাঙ্গীরের বড় ছেলে জাহিদুল ইসলাম মুরাদ, যিনি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী, বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়। তার মাথায় গভীর ক্ষত ও কনুইতে গুরুতর আঘাত লেগেছে। এছাড়া আরও কয়েকজন, যার মধ্যে মাজহারুল ইসলাম মুন্না, এনামুল হক, তাসনিম মনি ও মোতালেব হোসেন, মুরাদকে কাঠ ও লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করে।
পরিবারের ছোট ছেলে জহিরুল ইসলাম জিহাদ-কেও ছাড় দেয়নি হামলাকারীরা। তার মাথার দুই পাশে একাধিক আঘাত করে তাকে রক্তাক্ত করে ফেলে।
হামলার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করতে গেলে আসামিরা বাধা দেয় এবং হাসপাতাল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পথেও বাধা সৃষ্টি করে। পরে আহতদের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে দ্রুত টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে তিনজনই সেখানে চিকিৎসাধীন।
জেসমিন সুলতানা জানান, হামলাকারীরা মামলা না করার জন্য এখনও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় মধুপুর থানায় একটি এজাহার দাখিল করা হয়েছে। থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এই ধরনের নৃশংসতা শুধু পরিবার নয়, সমাজকেই আতঙ্কিত করে তোলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি—না হলে দুর্বৃত্তরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
www.daynik36july.com